সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: একসময় প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার ছিল ফুলজোড় নদী। সময়ের সঙ্গে দখল, দূষণ ও ভাঙনে নদীটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাই শুধু খনন নয়, নদীর ঐতিহাসিক প্রবাহপথ ফিরিয়ে আনা, দখল-দূষণ বন্ধ এবং ভাঙন রোধের মাধ্যমে ফুলজোড় নদীর পুনর্জীবন চান এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের নদীগর্ভে বিলীন জমি উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই এবং ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের দীর্ঘ ৩০ বছরের আবাসন-সংকট নিরসনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। গতকাল বিকেলে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোণায় মুন্ডুমালা মহাশ্মশান চত্বরে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠন মুক্তজীবনের যৌথ অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাপার সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও মুক্তজীবনের সভাপতি দীপক কুমার করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. চন্দন কুমার সরকার, মুক্তজীবনের সদস্য মো. আলীম তালুকদার, মুন্ডুমালা মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী জীবন কৃষ্ণ কুন্ডু, শ্রী রতন কুমার কুন্ডু, সহসভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ কুমার মহন্তসহ অন্যরা। কর্মসূচির শুরুতে দীপক কুমার কর ফুলজোড় নদী পুনরুদ্ধারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি আবেদনপত্র পাঠ করেন। এতে নদীর প্রকৃত সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রবাহপথ চিহ্নিত করতে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস মানচিত্র, পুরোনো ভূমি রেকর্ড এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের দাবি জানানো হয়। আবেদনপত্রে বলা হয়, মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের প্রায় ৮০ শতাংশ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমি উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের বরাদ্দকৃত জমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কেশরখালি খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখনন, নদীতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা নদী পুনরুদ্ধারে অপরিকল্পিত খননের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, পরিবেশসম্মত উপায়ে ভাঙন প্রতিরোধ এবং দখল-দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ফুলজোড় নদীকে টেকসইভাবে রক্ষা করা কঠিন হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তজীবনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম খোরশেদ আলম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মরহুমা মোমেনা খাতুনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীটির ঐতিহাসিক প্রবাহপথ যাচাই করে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে মহাশ্মশানের জমি ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর অধিকার নিশ্চিত করে ফুলজোড় নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উত্তরকোণ
সিরাজগঞ্জে ফুলজোড় নদীর প্রাণ ফেরাতে প্রবাহপথ পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

