সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে গণভোটের রায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট অস্বীকার করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ রোববার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া লং মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে গণভোট বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন ন্যারেটিভ বা অজুহাত তৈরি করতে সরকার ‘১১ দলের লং মার্চে পতিত সরকার ফিরে আসবে’ এমন প্রচারণার চেষ্টা করছে। সরকার ন্যায্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনটাকে থামিয়ে দিতে অন্যদিকে নজর ঘোরানোর ভিন্ন পরিকল্পনা করছে। এই জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। ভয় দেখিয়ে জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করার বাহানা করছে সরকার। তিনি আরও বলেন, ‘যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক, সমস্ত জায়গায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বসিয়ে দিচ্ছে বিএনপি। জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, বিএনপির লোক ছাড়া কেউ সারের ডিলার পায়নি। শাসকদল যারা শাসন করে, জনগণের কাছে যারা ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করে; তারা লং মার্চের প্রয়োজন বুঝবে না। বিরোধী দলের কর্মসূচি কীভাবে কেন করতে হয়; সেটা বিরোধী দলে থাকলেই বোঝা যায়। সরকারের চেয়ারে থাকলে সেটা বুঝা যায় না। রাজনীতিতে যখন রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করা যায় না তখনই এসব অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেন রাজনীতিবিদরা। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনিতর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনায় পুলিশের একাকী চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হলে পুলিশকে চলাচলে এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়? তালবাহানা, অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা না বলে আইনশৃঙ্খলার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিগত দিনে ১১ দলীয় জোটের অধীনে দুটি লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের লং মার্চও একইভাবে শান্তিপূর্ণ থাকবে। লং মার্চের কারণে সাময়িক যাতায়াত ও চলাচলে যে ভোগান্তি হতে পারে, সে জন্য ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ী, পথচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। লং মার্চের কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত দিনে সকাল ৮টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে এক সংক্ষিপ্ত জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় এক হাজার গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে লং মার্চটি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে। প্রায় ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ এই পথযাত্রায় মিডিয়াকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সাংসদ গোলাম রসূল, যশোর-৬ আসনের সাংসদ মোক্তার আলী, যশোর-৫ আসনের সাংসদ গাজী এনামুল হক এবং ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর জামায়াতের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
উত্তরকোণ
সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে গণভোটের রায় অস্বীকার করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

