আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ উপজেলার বড়আখিড়া গ্রামের বিধান চন্দ্র মন্ডলের পৈত্রিক জমি আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তি দখল করেছে বলে অভিযোগ মিলেছে। বগুড়া- নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই ধারে দুই দাগে অবস্থিত ২১ শতক জমি দখলের ঘটনার সুষ্টু প্রতিকার চেয়ে বিধান চন্দ্র মন্ডল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, বিধান চন্দ্র মন্ডলের বাবা, জ্যেঠা ও কাকা ’৫০ দশকে এলাকার জমিদারের সেরেস্তা থেকে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কামারকুডি মৌজায় কয়েক দাগে চেক বা রশিদ মূলে প্রায় আড়াই একর জমির মালিকানা লাভ করে। সেই মোতাবেক ১৯৬২ সালের ভূমি জরিপে মাখনলাল মন্ডল, মনোরঞ্জন মন্ডল ও কালিপদ মন্ডল নামে এস.এ (এম.আর.আর) খতিয়ানভুক্ত হয়। মালিকানা লাভের পর থেকে তারা বংশ পরস্পরায় চাষাবাদের মাধ্যমে ভোগ দখল করতে থাকে। সর্বশেষ আর. এস জরিপের সময় মাখনলাল মন্ডল ও তার ভাইদের অসচেতনতার সুযোগে বড়আখিড়া গ্রামের পাশে পশ্চিম সিংড়া গ্রামের আব্দুর রহমান, ওসমান আলী, দেলোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেন নামের চার ভাই কৌশলে তাদের নামে মাখনলালসহ তিন ভাইয়ের মালিকানার দুই একরের অধিক পরিমান জমি আর.এস তথা হাল রেকর্ড করিয়ে নেয়। এরপর তারা রেকর্ডীয় মালিকানার জোরে দখল করে। ফলে অসহায় মাখনলাল গং আদালতের আশ্রয় নেয়। তারা সহকারি জজ, জেলা জজ, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্ট থেকে ডিগ্রী লাভ করে। এই ডিগ্রী অনুযায়ী ২০১৩ সালে আদালত থেকে জমিতে লাল নিশানা দিয়ে ও ঢোল সহরত মাধ্যমে রহমান এবং ওসমান আলীসহ চার ভাইয়ের দখল উচ্ছেদ করে মাখনলাল ভাইদের অনুকুলে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। এরপর থেকে তারা ফের চাষাবাদের মাধ্যমে ভোগ দখল করে আসছে। এদিকে আরএস বা হাল রেকর্ড সংশোধনী চলা অবস্থায় রেকর্ডীয় মালিক চার ভাই পাশের নওগাঁ সদর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক নামের ব্যক্তির নিকট জমিটি বিক্রি করে দেয়। এর প্রায় দেড় যুগ পর তিনি গত সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার অন্ধকারে অর্ধশতাধিক লোকবল নিয়ে জিআই তারের বেড়া দিয়ে দখল করে সাইন বোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। এব্যাপারে আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন লাইন কেটে দেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় আদালতের ব্যাপার। বিবাদী দলিলসহ কোন না কোন কাগজ বলে দখল করেছেন। সে ক্ষেত্রে বাদীর উচিত হবে আদালত থেকে বিবাদীর উপর ইনজাংশন জারী করানো। থানার অফিসার ইনচার্য এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন বাদী বিধান চন্দ্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তকারি অফিসার প্রশিক্ষন থেকে ফিরেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রাথমিক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
উত্তরকোণ
আদমদীঘিতে বিধান চন্দ্রের জমি দখল করল এক প্রভাবশালী

