মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। পরে রোববার দুপুরের পর তাদের মধ্যে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফেডারেশনের সহ-সভাপতিরাও উপস্থিত ছিলেন। ফিফা সভাপতির সাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাফুফে সভাপতি জানান, এই সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থায়ন এবং তৃণমূল ফুটবলের অগ্রগতি নিয়ে ফিফা সভাপতির সাথে তাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ফিফার ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আটকে থাকা ফান্ডের সঠিক ব্যবহার। তাবিথ আউয়াল জানান, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বাফুফেকে ১৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে দুটি স্টেডিয়াম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বাফুফে। এই স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কার, ফ্লাডলাইট স্থাপন, টেকনিক্যাল সেন্টারের নির্মাণকাজ এবং সিলেটে একটি হাইব্রিড পিচ তৈরির কাজে ফিফা ফরোয়ার্ড ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করা হবে। বাফুফে সভাপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলতি বছর থেকেই এই ফান্ডের ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হবে। ফিফা সভাপতির আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘যখনই আমরা টেকনিক্যাল সেন্টার, সিলেটের হাইব্রিড পিচ অথবা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব, তখনই ফিফা প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো উদ্বোধন করতে বাংলাদেশে আসবেন। তিনি যেকোনো সময় আসতে প্রস্তুত, সময়টা মূলত আমাদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।’বাফুফে সভাপতি জানান, দেশের ফুটবল উন্নয়নে নেয়া দুটি সরকারি উদ্যোগের কথা শুনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অত্যন্ত রোমাঞ্চিত হয়েছেন। প্রথমত, স্টেডিয়ামগুলোতে সোলার পাওয়ার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং দ্বিতীয়ত, চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্কুলে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঠে টানতে আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে ইউরোপের দলগুলোর (যেমন- সান ম্যারিনো) সাথে আরো বেশি ম্যাচ খেলার আগ্রহের কথা ফিফা সভাপতিকে জানানো হয়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বা ফিফা নির্বাচন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাফুফে সভাপতি। আগামী ১৮ নভেম্বর ফিফা সভাপতি পদে মনোনয়নের শেষ দিন, এরপরই বাংলাদেশ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, সাফ অঞ্চলে নেপালের ওপর থাকা ফিফার নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা চাইব দ্রুত যেন নেপালের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় এবং তারা সাফে ফিরতে পারে।’ভুটান সফরের পর টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি কংগ্রেসে যোগ দেয়ার পথে ঢাকায় আবারো সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট নেবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে সেবার তিনি বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি কানেকটিং ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হবেন। সবশেষে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার এবং বাফুফে ফুটবল নিয়ে কতটা সিরিয়াস, তা ফিফা সভাপতি অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রগতি দেখে মুগ্ধ এবং আমাদের জন্য একটি ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছেন। আমি বিশ্বাস করি, সামনের দিনগুলোতে ফিফা থেকে আমরা আরো বড় পরিসরে সহযোগিতা পাব।’
উত্তরকোণ
সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় ফিফা সভাপতি

