উত্তরকোণ

রূপপুর ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা; ছুটির দিনে উপচে পড়া ভীড় দর্শনার্থীদের

রূপপুর ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা; ছুটির দিনে উপচে পড়া ভীড় দর্শনার্থীদের
oplus_2

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে পাকশীতে নতুন পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই মেগা প্রকল্পের সমন্বয়ে অপার সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটন অবকাঠামোর অভাব সহ রয়েছে নানা সমস্যা। এরই মাঝে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর. দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। চলতি পথে প্রথমেই চোখে পড়বে দেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এরপর পদ্মা নদীর উপর নির্মিত শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, পাশেই লালন শাহ সেতু, পাকশী রেলওয়ে স্টেশন আর ট্রেনের ঝমঝম শব্দ মিলে তৈরী হয় অন্যরকম আবহ। যা দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। পাবনায় বেড়ানোর মতো উল্লেখযোগ্য তেমন জায়গা নেই। কিন্তু ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে সময় কাটাতে যান বেশিরভাগ মানুষ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন এখানে। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মতো এই জায়গা দিন দিন নজড় কাড়ছে সবার। পদ্মা নদী, জোড়া সেতু, আর তার পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার লোভ সামলানো কঠিন। প্রায় প্রতিদিনই এখানে ভীড় করেন ভ্রমণ পিপাসু আর দর্শনার্থীরা। তবে ছুটির দিনগুলোতে এখানে দেখা যায় উপচে পড়া ভীড়। এসব মিলিয়ে এখানে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। সরকার পদক্ষেপ নিলে গড়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এতে একদিকে রাজস্ব পাবে সরকার আর নিশ্চিন্তে এখানে বেড়াতে আসতে পারবেন দুর-দুরান্তের দর্শনার্থীরা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো দর্শনার্থী ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভীড়। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসা শাকিল হোসেন বলেন, এখন এই জায়গাটি বেড়ানোর মতো সুন্দর জায়গা হয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে আমরা এখানে আসি বেড়াতে, ছবি তুলি, খুব ভালো লাগে। আরেক দর্শনার্থী খাইরুল ইসলাম বলেন, পাবনায় আসলে পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মতো তেমন সুন্দর জায়গা নেই। পাকশী এলাকাটা মন্দের ভালো। আর রূপপুর পারমানবিক হওয়ার পর আরো বেশি আকর্ষণ বেড়েছে। তাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে মাঝে মধ্যে এখানে বেড়াতে আসি। ঢাকা থেকে অফিসের কাজে এসে পাকশী ঘুরে দেখতে বের হয়েছেন সরকারি চাকুরীজীবি আশিক হাসান। তিনি বলেন, অফিসিয়াল কাজে ঈশ্বরদীতে এসেছি। ছুটির দিন হওয়ায় ঘুরতে বেরিয়েছি। পাকশীর কথা শুনে এসে দেখলাম বেশ ভালো পরিবেশ ও সুন্দর জায়গা। পর্যটন কেন্দ্র হলে ভালো হবে। তবে এখানে রয়েছে বেশকিছু সমস্যা সঙ্কটও। বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীরা জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীর কাছে নামার সড়কটি বেহাল। রয়েছে পাবলিক টয়লেট, বিশ্রামাগার ও নিরাপত্তার অভাব। এসব সমস্যা সমাধানের দাবি তাদের। জিনিয়া খাতুন নামের গৃহবধূ বলেন, জায়গাটা সুন্দর। তবে কিছু সমস্যা আছে। পদ্মার পাড়ে নামার মতো ভালো রাস্তা নেই। পাবলিক টয়লেট নেই। নিরাপত্তারও অভাব আছে বলে মনে হয়। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে ভালো হয়। কলেজের প্রভাষক আরিফ আহমেদ বলেন, এই জায়গাটি ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার যদি এটা নিয়ে পরিকল্পনা করেন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলেন তাহলে সাধারণ মানুষ একটু বেড়ানোর পরিবেশ পেতো। সেইসঙ্গে এখান থেকে সরকারও ভালো রাজস্ব আয় করতে পারে। এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি পর্যটন কেন্দ্র করতে যে বাজেট দরকার, তা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য পাবনাবাসীর যদি জোড়ালো দাবি ওঠে, তাহলে আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে তাদের মাধ্যমে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। সন্ধ্যায় ফেরার পথে চোখে রেটিনায় ধরা পড়বে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লীর অপরূপ সৌন্দর্য। তাই পাকশী ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

শেয়ার: