উত্তরকোণ

নন্দীগ্রামে কালীমন্দিরে ভাঙচুর, পরিদর্শনে গিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ এমপি মোশারফের

নন্দীগ্রামে কালীমন্দিরে ভাঙচুর, পরিদর্শনে গিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ এমপি মোশারফের

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলার মাটিহাঁস ডহরপুর শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরিসহ মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে ডোবার ভিতর ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও মন্দিরে থাকা কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেন। খবর পাওয়ার পরপরই তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জ, ফাঁড়ির ইনচার্জ, সাবেক মেয়র, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মন্দিরের পুরোহিত খগেন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মন্দিরে পূজা-আরাধনা শেষে তিনি বাড়িতে চলে যান। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মন্দিরে এসে তিনি প্রতিমা ভাঙচুর, দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি এবং কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। পরে মন্দিরের পাশের একটি ডোবা থেকে ভাঙচুর করা প্রতিমাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নন্দীগ্রামে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এমপি আরও বলেন, মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কিংবা এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া নিতে হবে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দেন।

শেয়ার: