শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালবিরোধী অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ২২টি চায়না দুয়ারি জাল ও একটি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ২৩টি জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের কচুয়াদহ এলাকার বাঙ্গালী নদীর একটি শাখার রঙ্গিলা ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মির নেতৃত্বে অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুসারে অভিযান চালিয়ে ২২টি চায়না দুয়ারি জাল ও একটি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টাকা। অভিযানের সময় জব্দকৃত জালে আটকে পড়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়। পরে নদীর তীরে জনসম্মুখে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আগুনে পোড়ানো জালের ধ্বংসাবশেষ থেকে অবশিষ্ট লোহার রিং শাহনগর দারুস সালাম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রদান করা হয়। অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান (৪৫) ও আব্দুর রহমান (২১) জানান, নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার কারণে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় থানার এএসআই ইয়াছিন আলীসহ পুলিশের সদস্য, উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মচারী, চোপিনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি বলেন, প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উত্তরকোণ
নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে মোবাইল কোর্ট, পুড়িয়ে ধ্বংস ২৩ জাল

