উত্তরকোণ

সিসা দূষণ বন্ধে রাজশাহীতে ৫ দফা দাবি

সিসা দূষণ বন্ধে রাজশাহীতে ৫ দফা দাবি

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি ও রিসাইক্লিং বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব, পরিবেশবাদী, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রিন কোয়ালিশন। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সংগঠন দুটির একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে অবৈধভাবে সিসা তৈরি ও রিসাইক্লিংয়ের সময় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ক্ষতিকর সিসার ক্ষুদ্রকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানুষের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কিডনি জটিলতা, রক্তশূন্যতা ও ক্যান্সারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মাটি, পানি, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে ইউনিসেফের দ্য টক্সিক ট্রুথ চিলড্রেনস এক্সপোজার পলিউশন আন্ডারমিন্স এ জেনারেশন অব পোটেনশিয়াল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বে প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি। এদের প্রায় অর্ধেকের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক শিশু সিসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে সিসার বিষক্রিয়া মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দর সড়কে ফায়ার সার্ভিসের পাশের কিছুটা সামনে এইট স্টার মেটাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে পুরাতন ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা সংগ্রহের কাজ চলছে। এতে আশপাশের পরিবেশ, কৃষিজমি, প্রাণ-প্রকৃতি ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। অবৈধ ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা তৈরির কারবার বন্ধে স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলোÑপবাসহ রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পোড়ানো অবিলম্বে বন্ধ করা, লোকালয় ও ফসলি জমির পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা, পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়া সিসা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত মালিকদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নজরদারি বাড়িয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এবং সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি চালানো, পাশাপাশি সিসা দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে মাইকিং, সভা ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং এতে স্থানীয় তরুণ-যুব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা।
এছাড়া একই দাবিতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইউসুফ আলী, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক মোছাঃ তাছমিনা খাতুন এবং পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইবনুল আবেদীনের কাছেও পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদানকালে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পলি রানী, আমার বাংলা তরুণ সংঘের সভাপতি তাহমিদ জাকি, স্বচ্ছলতা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইহতেশামুল আলম জোহা, গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহীর সদস্য মিরাতুজ জাহান মিলি, রাকিব হাসান বাপ্পি, সুমাইয়া খাতুনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সিসা দূষণ বন্ধের পাশাপাশি রাজশাহীর পুকুর-দিঘি, জলাশয় ও জলাধার সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

শেয়ার: