উত্তরকোণ

নওগাঁ ধামইরহাটে নারী হত্যা এবং মান্দায় ভগ্নিপতি হত্যায় আসামি গ্রেপ্তার

নওগাঁ ধামইরহাটে নারী হত্যা এবং মান্দায় ভগ্নিপতি হত্যায় আসামি গ্রেপ্তার

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ধামইরহাটে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক নারীকে নৃশংসে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মান্দায় পারিবারিক কলহের জেরে ফজরের নামাজের সময় ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম । পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান– ধামইরহাটে মেরিুনা বেগম নামের এক নারীকে হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে লাশ পুড়িয়ে দেয় পরকিয়া প্রেমিক। তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধামইরহাট উপজেলার তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে গত ১৯ আগস্ট অজ্ঞাত হিসেবে ওই নারীর অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিতের পর জানা যায়, ভুক্তভোগী মেরিনা বেগম গত কিছুদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের অনৈতিক প্রস্তাব ও বিয়ের চাপ প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় চারজনের একটি দল। গত ১৮ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেলে করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় মেরিুনাকে। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাবুল হোসেন ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্টসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে। জড়িত বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অপরদিকে জেলার মান্দা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সমন্ধির হাসুয়ার কোপে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মামুনুর রশীদ নামের এক ব্যক্তি। গত ১৫ আগস্ট ভোরে শামুক খোলা গ্রামের এক মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর মুহূর্তেই মামুনুর রশীদের ওপর ধারালো হাসুয়া নিয়ে হামলা চালান তার স্ত্রীর বড় ভাই ইসমাইল হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ১৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত ইসমাইলকে গত ১৯ আগস্ট মহাদেবপুরের শিবপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তাক্ত হাসুয়াটি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান- পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনারই তদন্ত শুরু করে। ধামইরহাটের ঘটনাটিতে অপরাধীরা পরিচয় গোপন করার জন্য লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস পথ বেছে নিয়েছিল। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অন্যদিকে মান্দার ঘটনাতেও অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তাক্ত অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শেয়ার: