উত্তরকোণ

বগুড়া শহরের ড্রেনগুলো নির্মাণ ও সংস্কার করে পানি করতোয়া নদীতে ফেলার নির্দেশ সিটি প্রশাসকের

বগুড়া শহরের ড্রেনগুলো নির্মাণ ও সংস্কার করে পানি করতোয়া নদীতে ফেলার নির্দেশ সিটি প্রশাসকের

বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের ড্রেনগুলো নির্মাণ ও সংস্কার করে পানি করতোয়া নদীতে ফেলার জন্য কার্যকর নির্দেশনা দিয়েছেন বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শহরের সাতমাথা এলাকায় পরিদর্শন করে এই দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করার এবং ড্রেনের পানি সরাসরি যেন করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ে এমন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নদীর ভূমিকাশহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় এবং নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৃষ্টির ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল তিনটা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর পর্যন্ত শহরে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা এবং ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ থাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড ও নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পথচারীদের অনেককেই হাঁটুসমান পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। স্কুল-কলেজ ফেরত শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রিকশাচালক, পথচারী সবাইকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। জমে থাকা পানি দ্রুত সরাতে সড়কে নেমে কাজ করেছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তারা জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে হেঁটে পরিস্থিতি দেখেন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে প্রশাসক নিজে পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই তৎপরতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। অনেকেই তার এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। পরিদর্শন শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জলাবদ্ধতার বর্তমান অবস্থা এবং নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। যে সব কারণে শহরে এই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে সমাধানের কড়া নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু একটি প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছেও রাখা উচিত? এই জলাবদ্ধতার জন্য আমরা কতটা দায়ী? প্রতিদিন প্লাস্টিক, পানির বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্য ড্রেনে ফেলে আমরা নিজেরাই পানির চলাচলের পথ বন্ধ করে দিচ্ছি। এরপর ভারী বৃষ্টি হলেই দোষ দিই শুধু সিটি কর্পোরেশনকে। একটি পরিচ্ছন্ন শহর শুধু সরকারি সংস্থার একার পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নাগরিক দায়িত্ববোধ ছাড়া কোনো শহরকে বাসযোগ্য রাখা যায় না। মনে রাখবেন, একটি প্লাস্টিকের বোতল হয়তো আপনার কাছে তুচ্ছ, কিন্তু সেটিই একটি ড্রেন বন্ধ করে শত শত মানুষের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। তাই আসুন, পরিবর্তনটা নিজের থেকেই শুরু করি। ড্রেনে বা রাস্তায় কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলব না। সচেতন নাগরিকই পারে একটি শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে।

শেয়ার: