মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, একটি সভ্য, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত হলো নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি শিশু রামিসার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের বিচার চাইতে অনীহা বা ভয় অপরাধীদের উৎসাহিত করে। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন এবং অ্যাসিড সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর আইন রয়েছে। তবে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বয়কট ও ঘৃণিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ায় শিশুদের যথাযথ তদারকি কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল আসক্তি এবং মাদকের বিস্তার সামাজিক সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সামাজিক সম্মানের ভয়ে নির্যাতনের ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাঃ সবুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহ. আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
উত্তরকোণ
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

