উত্তরকোণ

বগুড়ায় মতবিনিময় সভায় আলোচকরা “সংকটের ভয়াল থাবায় বেকারি শিল্প”

বগুড়ায় মতবিনিময় সভায় আলোচকরা “সংকটের ভয়াল থাবায় বেকারি শিল্প”

বাংলাদেশে ভারী, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় পড়ে এ দেশের বেকারি শিল্প। এ শিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা। একদিকে কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতি, অপরদিকে সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, ছাড়পত্রসহ কাগজে-কলমে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এ শিল্পের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফিডিং মিল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ মেলে না। শুধু বঞ্চিতই করা হচ্ছে না, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ধরনের গলাটিপে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার কৌশলও নেওয়া হচ্ছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এমন সিদ্ধান্ত বেকারি মালিকদের অনেক পিছিয়ে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, অদক্ষ মানুষও ফুটপাতে কোনো ধরনের বৈধতা ছাড়াই খাদ্যপণ্য বিক্রি করছে। এটিও এ শিল্পকে ধীরে ধীরে রুগ্ণ শিল্পে পরিণত করেছে। দেশের অনেক খাদ্যশিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনেকে এ শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশে বেকারত্ব দিন দিন বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ শিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরাও এ শিল্পের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর না থাকায় কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে বেকারের খাতায় নাম লেখাচ্ছেন। এভাবে বেকারত্ব বেড়ে গেলে দেশে অপরাধপ্রবণতাও দিন দিন বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে অভিজ্ঞ মহল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসে হয়রানি কমানোসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজীকরণ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। অনুমোদনহীন সংগঠনের শ্রমিকরাও এ শিল্পকে হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের ইন্ধনদাতা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। করপোরেট শিল্পগুলো মাঝারি ও ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পের পণ্য বাজারজাত করায় এ শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে উদ্যোক্তার নামে মানহীন খাদ্যপণ্য তৈরি করে যত্রতত্র বিক্রি করায় এ শিল্প প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকারের সঠিক মনিটরিং ও আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে এ শিল্পকে বাঁচাতে অনুরোধ করছি। বগুড়া জেলা বেকারি মালিক সমিতির আয়োজনে মহানগরের দত্তবাড়ীর স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে বেকারি মালিকদের সমন্বয়ে রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (সিআইপি) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উত্তরবঙ্গ বেকারি মালিক সমিতি ও জেলা বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি, আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান ফারুক। জেলা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক ইমদাদ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মিয়া, গোলাম ফারুক তরফদার, আওলাদ হোসেন, কাওছার ভান্ডারী, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা শাহাদৎ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সচিব ফারুক হোসেন খান, বায়েজিদ শেখ, রেজাউল করিম, আলী আজমসহ প্রমুখ। মতবিনিময় সভার শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। মতবিনিময় সভার পূর্বে নেতৃবৃন্দ বগুড়া কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগীয় কার্যালয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

শেয়ার: