মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝে হঠাৎ করেই সুর নরম করল চিরবৈরী দুই দেশ ইরান ও ইসরাইল। পাল্টাপাল্টি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর অবশেষে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। অপরদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়ার যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয়েছিল। তবে আপাতত এই সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এটি কোনো স্থায়ী চুক্তি নয়; ভবিষ্যতে যদি ইসরাইল পুনরায় কোনো ধরণের উস্কানিমূলক আগ্রাসন চালায়, তবে তার কড়া এবং আরও ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে। এর আগে, লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অবিরাম হামলার জেরে রোববার রাত থেকে ইসরাইল জুড়ে অন্তত ২০টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। এর পাশাপাশি সোমবার সকালে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি বিমান বাহিনীও তাৎক্ষণিকভাবে ইরানে দুই দফায় পাল্টা বিমান হামলা পরিচালনা করে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা রাতভর অভিযান চালিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত নয়টি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। একই সাথে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি কৌশলগত পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও সফল হামলার দাবি করেছে তারা। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় যখন মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই কূটনৈতিক টেবিলে নাটকীয় মোড় আসে। ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ এক জ্যেষ্ট ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরও বড় ও ব্যাপকভিত্তিক বিমান হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ অনুরোধ ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে সেই পূর্বপরিকল্পিত বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় নেতানিয়াহু সরকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা স্থগিত করলেও লেবানন সীমান্তে কোনো ছাড় দিচ্ছে না তেল আবিব। ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরাইলি শহরগুলোতে রকেট এবং ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইসরাইল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে (দাহিহ) ব্যাপক পাল্টা হামলা চালাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে আগামী দিনগুলোতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অভিযান পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের হাত থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা করল। তবে আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের এই দাবি কিংবা ট্রাম্পের অনুরোধের সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উত্তরকোণ
ইরানের হামলা স্থগিত, ট্রাম্পের নির্দেশে পিছু হটল ইসরাইলও

