উত্তরকোণ

মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব- অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন

মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব- অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পন্থায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দিতে হবে। সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে হলে দাওয়াতে দ্বীনের কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দাওয়াতের আদর্শ তুলে ধরতে হবে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ নগরীর জেলা পরষিদের ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ অঞ্চল কর্মী শিক্ষাশিবিরে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার পরিচালায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, দাওয়াতি কাজের মূল ভিত্তি হতে হবে ধৈর্য, নম্রতা ও উত্তম আচরণ। মানুষের মন জয় করার জন্য কঠোরতা বর্জন করে হিকমত বা প্রজ্ঞার সাথে কথা বলতে হবে। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দাওয়াতে দ্বীনের কাজ কোনো সাধারণ দায়িত্ব নয়, এটি সরাসরি আম্বিয়া আলাইহিস সালামদের উত্তরাধিকার। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের যে ঈমানি নেয়ামত দিয়েছেন, তার শুকরিয়া আদায় করার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালানো। আমাদের মনে রাখতে হবে, দাওয়াতের সফলতা কেবল কথার চাতুর্যে নয়, বরং আমাদের উন্নত চরিত্র ও আচরণের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে আমাদের প্রতিটি কর্মীকে একেকজন জীবন্ত আদর্শ হিসেবে সমাজের সামনে দাঁড়াতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের সুমহান ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। কঠোরতা বা জোর-জবরদস্তি নয়, বরং হিকমত, ধৈর্য এবং ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে হবে। আসুন, আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে আরও উন্নত করি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মপদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিটি ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দেওয়ার শপথ গ্রহণ করি। আল্লাহ আমাদের এই দাওয়াতি প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব বলেন, ইসলামী আন্দোলনে শপথ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর সাথে দ্বীন কায়েম এবং সমাজ কল্যাণের এক পবিত্র চুক্তি। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সুন্নাহকে অনুসরণ করে জামায়াতে ইসলামী এই শপথের পদ্ধতি বজায় রেখেছে, যা কর্মীদের মাঝে সর্বোচ্চ সততা, দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে। এই শপথের মাধ্যমে আমাদের কর্মীরা সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হন। এটি দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং ‘শুনলাম ও মানলাম’ (আনুগত্য)-এর নীতিকে শক্তিশালী করে, যা যেকোনো চরমপন্থা ও বিশৃঙ্খলা থেকে রাজনীতিকে মুক্ত রাখে। জামায়াতে ইসলামীর সংবিধান অনুযায়ী, একজন কর্মী যখন ‘রুকন’ বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে শপথ নেন, তখন তিনি নিজের জীবনকে দুর্নীতি, অন্যায় ও ইসলামের পরিপন্থী যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেন। একই সাথে তিনি দেশের আইন মেনে, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। ময়মনসিংহ অঞ্চল কর্মী শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মো. আব্দুল করিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর, সহকারি সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপি, জামালপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাদেক আহমেদ হারিস, কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুল, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদারসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার: