উত্তরকোণ

কুড়িগ্রামের কাঠালবাড়ির ১৯ বছরের তরুণ, শরীরটা যেন শিশুর ! বিরল রোগে কাটছে রাজুর মানবেতর জীবন

কুড়িগ্রামের কাঠালবাড়ির ১৯ বছরের তরুণ, শরীরটা যেন শিশুর ! বিরল রোগে কাটছে রাজুর মানবেতর জীবন

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।। বয়স ১৯ ছুঁইছুঁই। জাতীয় পরিচয়পত্রের হিসাবে তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক তরুণ। তবে দূর থেকে দেখলে কিংবা সামনাসামনি দাঁড়ালে মনে হবে ৭ কিংবা ৮ বছরের এক অবোধ শিশু। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর বাড়েনি শরীরের গঠন। কুড়িগ্রামের তরুণ রাজু আহমেদের জীবন যেন আটকে গেছে এক বিরল ও নির্মম শারীরিক জটিলতায়। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের প্রতাপ বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ গোলাম মোস্তফা ও মোছাঃ রঞ্জিনা বেগমের ছেলে রাজু আহমেদ (প্রতিবন্ধী আইডি: ২০০৭৪৯১৫২৫৭১০১৮৯১-০২)। সরকারি তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর। জন্মের পর শৈশবের শুরুর দিকটা অন্য আর দশটা সাধারণ শিশুর মতোই কাটছিল রাজুর। কিন্তু হঠাৎ করেই থেমে যায় তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা। চিকিৎসা করালেও পরিবর্তন আসেনি রাজুর দৈহিক গঠনে। উল্টো সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকট হয়েছে শারীরিক অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা। হাত ও পায়ে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা, যার কারণে স্বাধীনভাবে চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজ করার শক্তিটুকুও হারিয়েছেন তিনি। অর্থাভাব আর অসুস্থতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চতুর্থ শ্রেণির পর চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে তার স্কুলের বারান্দায় যাওয়া।
রাজুর বাবা স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পিয়নের কাজ করেন। ৬ সদস্যের বড় পরিবারে তার সামান্য বেতনে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। বড় ছেলের ছোট একটি দোকান থাকলেও তা দিয়ে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই দায়। এর ওপর রাজুর চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে এখন ঋণের সাগরে ডুবতে বসেছে পরিবারটি। চিকিৎসকদের একাংশের মতে— হরমোনজনিত ত্রুটি, জিনগত জটিলতা কিংবা গ্রোথ হরমোনের মারাত্মক ঘাটতির কারণে রাজুর এমন শারীরিক দশা হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জেনে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রাজুকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও বেশ কিছু ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যার সাধ্য রাজুর পরিবারের একেবারেই নেই। রাজুর বাবা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, রাজুকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দেখতে চান তারা। কিন্তু চিকিৎসার পেছনে যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, তা যোগানোর ক্ষমতা তাদের নেই। ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন রাজুর অসহায় পিতা-মাতা। একটু সহানুভূতি আর সঠিক চিকিৎসা হয়তো ১৯ বছরের রাজুকে ফিরিয়ে দিতে পারে একটি নতুন ও স্বাভাবিক জীবনের আলো।

শেয়ার: