মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজশাহীর বৃহৎ আমের মোকাম বানেশ্বর হাট আবারও জমে উঠেছে। হাটজুড়ে এখন বিভিন্ন জাতের আমের সরবরাহ বেড়েছে এবং দূর-দূরান্তের পাইকারদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে। এতে কিছু জাতের আমের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সব জাতের ক্ষেত্রে একই চিত্র নয়। তবে আম ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাটে প্রচলিত ৪৮ কেজিতে মণ হিসাবের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাট ঘুরে দেখা যায়, আড়ৎ ও খোলা জায়গাজুড়ে আমের স্তূপ। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান ও ট্রলিতে করে আম নিয়ে আসছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কোথাও আম নামানো, কোথাও ওজন করা, আবার কোথাও বাছাই ও প্যাকেটজাতের কাজ চলছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরকষাকষি ও পরিবহন শ্রমিকদের ব্যস্ততায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে হাট। বর্তমানে হাটে আম্রপালি আম প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা, লক্ষণভোগ ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, হিমসাগর (ক্ষীরসাপাত) ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং গোপালভোগ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আমচাষি শাহানুর আলম জানান, তিনি হিমসাগর আম প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং গোপালভোগ ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ঈদের পর বাইরের জেলার পাইকাররা আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজারে আমের সরবরাহও অনেক বেশি রয়েছে। ব্যবসায়ী মোঃ ফজলু বলেন, ঈদের আগে তিনি গোপালভোগ আম প্রতি মণ ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। একই মানের আম বিক্রি করতে হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছর মৌসুমের শেষ দিকে গোপালভোগের দাম বাড়লেও এবার এখনো সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বাগান থেকে আম কিনে হাটে বিক্রি করা ব্যবসায়ী মোঃ শাহিন বলেন, বানেশ্বর হাটে দীর্ঘদিন ধরেই ৪৮ কেজিতে এক মণ হিসেবে আম কেনাবেচা হয়ে আসছে। এবার আমের দাম কম থাকার পরও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ওজন দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। হাটে আম কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবুহেনামোস্তফা জামান বলেন, তিনি বানেশ্বর হাট থেকে তিন মণ গোপালভোগ আম কিনেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই গোপালভোগের মৌসুম শেষ হয়ে যাবে। বর্তমানে আমের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে। আগে প্লাস্টিকের ক্যারেটের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা থাকলেও এখন তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে বাজারে আমের সরবরাহ দ্রুত বাড়ছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজশাহীর আম পাঠানো হচ্ছে পুরোদমে। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাইরের জেলার ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়লে বাজারে দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হওয়ায় ঈদের পর বাজারে আমের দামও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে বানেশ্বর হাট এখন রাজশাহীর আম বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে আম কিনতে পারছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ভালো বাজারের প্রত্যাশায় রয়েছেন।
উত্তরকোণ
আমের বাণিজ্যের কেন্দ্র এখন বানেশ্বর, বাড়ছে ক্রেতা-পাইকারের আনাগোনা

