চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, তারেক রহমানের অপেক্ষায় চীনের জনগণ ও সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দু’দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএনপির সাম্প্রতিক চীন সফর পরবর্তী এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে কথা বলেন ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। চীনের জনগণ ও সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, চীনের জনগণ ও সরকার তারেক রহমানের চীন সফরের অপেক্ষায় রয়েছে। বিএনপির সাম্প্রতিক সফরকে ঘিরে দেশটির জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে এবং চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এই সফর গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএনপির সাম্প্রতিক চীন সফর পরবর্তী এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ ছাড়াও তিনি শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে একই রকম কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে বাংলাদেশের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে চীন। ইয়াও ওয়েন বলেন, “বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।” সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং প্রথমবারের মতো দু’দেশের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষায় চীন সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে চীন।” সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় বেইজিং। দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন ইয়াও ওয়েন জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং বছর শেষে এ সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
উত্তরকোণ
তারেক রহমানের অপেক্ষায় চীনের জনগণ ও সরকার- চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

