মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীতে বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে মাঠের ফসল ও ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলার কিছু এলাকায় আমের গুটি ঝরে পড়া এবং পাকা-আধাপাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় চাষি ও বাগান মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শুরু হওয়া এ শিলাবৃষ্টি প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হয়। এর মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষকের জমিতে গম মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যেসব গম প্রায় পেকে গিয়েছিল, সেগুলোর ক্ষতি বেশি হয়েছে। শিলার আঘাতে গমের শীষ ঝরে পড়েছে। পাশাপাশি ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজের বীজ কদমসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গম কাটার আগমুহূর্তে এমন দুর্যোগে কৃষকের সম্ভাব্য ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমের মৌসুমের শুরুতেই গাছে আসা ছোট গুটি ঝরে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাগান মালিকরা। এতে আগাম মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলার সিংদা এলাকার পেঁয়াজ চাষি জলিল বলেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। এখনও ১০ কাঠা জমির পেঁয়াজ তোলা বাকি আছে। বৃষ্টির সময় শ্রমিক মাঠে কাজ করছিল। পানিতে পেঁয়াজ ভিজে গেছে। পেঁয়াজের বীজ কদম চাষি মো. আলম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সার, সেচ ও শ্রমিকসহ সব খরচই বেড়েছে। এর মধ্যে এই ক্ষতি আমাদের পথে বসিয়ে দিতে পারে। আম চাষি আমিনুল হক বলেন, মৌসুমের শুরুতেই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে গাছের অনেক গুটি আম ঝরে পড়েছে। দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, শিলাবৃষ্টির ফলে গম ও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। কিছু জমিতে ফসল টিকে থাকলেও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উত্তরকোণ
রাজশাহীতে বছরের প্রথম কালবৈশাখীতে শিলাবৃষ্টি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

