ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে কয়েক মাস ধরেই মতবিরোধ চলছে। এরআগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগত আলোচনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন এবং যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে সতর্ক করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’ করছেন বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শও দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষতি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে সীমিত পরিসরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে হামলা চালালেও তা নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রচার চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে, নেতানিয়াহু মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। তবে নির্বাচনের আগে হামলা পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বুধবার সামাজিকমাধ্যমে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।’ তার মতে, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার দলটির পাশ থেকে সরে গেছেন। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে—নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে প্রশাসনের একাংশ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে। সব মিলিয়ে সামরিক কৌশল, কূটনৈতিক সমাধান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ইরান নীতি নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। সূত্র: আনাদোলু
উত্তরকোণ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

