উত্তরকোণ

নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে মরিয়া বিরোধীরা : ৪৫ বছরের রেকর্ডে ইসরাইলে ভোট গ্রহণ

নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে মরিয়া বিরোধীরা : ৪৫ বছরের রেকর্ডে ইসরাইলে ভোট গ্রহণ

চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ আর নেতানিয়াহুবিরোধী জোয়ারের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ইসরাইলে শুরু হয়েছে নতুন সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য ও শাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন সাধারণ ইসরায়েলিরা। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলু মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জানায়, দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৬.৬৮ শতাংশ ভোট নিবন্ধিত হয়েছে। নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দিন লিভনে নিশ্চিত করেছেন, ওই সময়ের মধ্যেই ভোট দিয়েছেন ১২ লাখের বেশি নাগরিক। গত ৪৫ বছরের ইতিহাসে সকাল ১০টার মধ্যে ভোটার উপস্থিতির দিক থেকে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২০২২ সালের গত নির্বাচনেও একই সময়ে এই হার ছিল ১৫.৯ শতাংশ; যা থেকে এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ০.৭৮ শতাংশ।

আরব ও বামপন্থী ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়: ভোটকেন্দ্রগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ আসার পেছনে আরব এলাকা ও বামপন্থী দুর্গগুলোর অভূতপূর্ব অংশগ্রহণকে কারণ হিসেবে দেখছেন শাসকদলের নেতারা। ক্ষমতাসীন উগ্রপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আরব সমাজ ও ঐতিহ্যগতভাবে বামপন্থী রাজনৈতিক দল সমর্থিত অঞ্চলগুলোতে এবার বিপুল মানুষ ভোট দিতে বের হয়েছেন। একই ধরনের বক্তব্য উঠে এসেছে আরব সংসদ সদস্য আহমদ তিবি’র কথায়। উৎফুল্ল কণ্ঠে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রগুলোতে এমন ভিড় আগে কখনো দেখা যায়নি। আমরা নিশ্চিত যে এবার এক বড় জয় পেতে যাচ্ছি।’ অন্যান্য আরব দল ও বিরোধীরাও নেতানিয়াহুকে টানা ক্ষমতার মসনদ থেকে সরাতে ব্যাপক মাত্রায় সাধারণ ভোটারদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনটি আরব দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর নেতা ইউসেফ জাবারিন ভোট দেয়ার পর আশা প্রকাশ করেন, এবার আরব ভোটারদের উপস্থিতি ৭০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে। আর তাতেই আটকে দেয়া যাবে নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী নতুন সরকার গঠনের স্বপ্ন। তিন আরব দল ও ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রয়োজনে তারা জোটের বাইরে থেকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের সম্ভাব্য নেতৃত্বকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট: ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ ৪১ বছরের  ক্যারিয়ার শেষে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট এবার সরাসরি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহুকে। ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকোট ২০২৫ সালে গঠন করেন ‘ইয়াশার’ দল। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইসরাইলে এমন এক ‘পরিবর্তনের সরকার’ গড়ার, যা অবসান ঘটাবে নেতানিয়াহু আমলের। বিভিন্ন প্রাক-নির্বাচনী জরিপে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ পার্টি জনপ্রিয়তায় পেছনে ফেলে দিয়েছে নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ’কে। তবে মূল সমীকরণ আরো জটিল। ১২০ সদস্যের নেসেটে প্রয়োজনীয় অন্তত ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরাসরি দুই পক্ষের কারোর জন্যই পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

‘নেতানিয়াহু ও হারেদিদের শাসনের অবসান চান’ বিরোধীরা: সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই নির্বাচন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের এই দিনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিরোধী দল ‘ইসরায়েল বেইতেনু’র নেতা আভিগদোর লিবারম্যান সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘ভোট দিন। নেতানিয়াহুর যুগ ও হারেদিদের শাসনের অবসান ঘটান।’ উল্লেখ্য, ইসরাইলের অতি-গোঁড়া (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘হারেদি’ বলা হয়। নেতানিয়াহু সরকারের উগ্র ডানপন্থী জোটে এসব ধর্মীয় দল অন্যতম প্রধান শরিক। সাধারণ ধর্মনিরপেক্ষ ইসরাইলিদের অখুশি করে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় কোটি কোটি ডলারের ভর্তুকি দেয়া, যুবকদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি রাখা এবং সমাজে গোঁড়া ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের কারণেই বিরোধীরা একে ‘হারেদিদের শাসন’ বলে তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

শেয়ার: