উত্তরকোণ

হিমালয়ে ভূমিধসে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ছাড়াল ৫৫০

হিমালয়ে ভূমিধসে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ছাড়াল ৫৫০

হিমালয়ে ভূমিধসে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে রেড ক্রস। একইসঙ্গে ত্রাণ কর্মকর্তারা নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছেন। গত বুধবারের বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপাল ও তিব্বতে নিহতের সংখ্যা এরইমধ্যে ৫৬২ জনের দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন তিব্বতের। স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে নিখোঁজ আছে সহস্রাধিক মানুষ। শুক্রবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, ‘আমাদের ধারণা, অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ব্যাপক সহায়তা প্রয়োজন। তবে আমরা দ্বিতীয় দফার বন্যা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিশার বলেন, ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ায় ত্রাণবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দপ্তরের প্রধান কমল কিশোরও নতুন দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এক অর্থে দুর্যোগ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোনো কোনো দিক থেকে এটি এখনও ঘটেই চলেছে। একই ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ জানান, ভূমিধসে ছয়টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন আটজন স্বাস্থ্যকর্মী।

হ্রদের তীর ভেঙে বন্যার ‘উচ্চ সতর্কতা’ জারি করলো চীন: এদিকে, চীন সতর্ক করেছে যে, সাম্প্রতিক ভূমিধসের পর সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদের তীর ভেঙে যাওয়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে, যা ভাটির দিকে দ্বিতীয় দফা বন্যার কারণ হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত ওই বাঁধসদৃশ হ্রদে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে। বাঁধসদৃশ হ্রদ হলো এমন একটি জলাধার, যা নদীর প্রবাহ ধ্বংসাবশেষের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে তৈরি হয়। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতে, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে গঠিত এই বাঁধসদৃশ হ্রদটি বৃহস্পতিবার থেকেই উপচে পড়তে শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে সপ্তাহান্তের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবাহিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ‘তীর ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করছে। ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ কিছু সময় স্থগিত রেখে পরে আবার শুরু করে চীন। সূত্র : বিবিসি

শেয়ার: