উত্তরকোণ

স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে-জামায়াত আমির

স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে-জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে। মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে।’তিনি বলেন, ‘মিডিয়াকে বলা হয় সমাজের আয়না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কোনো কিছু আড়াল থাকে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এ কারণেই সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক বলা হয়। মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। আর বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে।’শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪তম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘জালালাবাদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই পত্রিকার প্রতি একটি অনুরোধ রাখব। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জালালাবাদ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না, এটি হবে জনগণের মুখপাত্র। কোন দল কখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সেটি আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা। কিন্তু জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে।’তিনি বলেন, ‘এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। এমনকি এ পথে চলতে গিয়ে যদি পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস না করা হয়। পত্রিকার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে এবং জনগণের কথা বলতে হবে।’তিনি আরো বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বিরুদ্ধে যায় কিংবা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন সত্য প্রকাশে পিছপা না হয়। একটি গণমাধ্যম যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরে, তখন মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি বৃদ্ধি পায়।’বর্তমান সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সঙ্কটগুলোর একটি হলো আস্থার সঙ্কট। মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি প্রত্যাশা করি, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থার সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সমাজকে সহায়তা করবে।’তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদপত্র সোসাইটির ভ্যানগার্ড। আর গণমাধ্যমের দু’টি অংশ নিউজ ও ভিউজ। নিউজ হচ্ছে হুবহু তথ্য তুলে ধরা। আর ভিউজে গণমাধ্যম তার মতাদর্শ অনুযায়ী রঙ মাখিয়ে তুলে ধরে। সেটা জনগণ গ্রহণ করবে কি-না, সেটা জনগণের বিষয়। কিন্তু আমরা নিউজ ও ভিউজের মধ্যকার পার্থক্য গুলিয়ে ফেলি।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাংবাদিকরা নিজেরা জিতে, জাতিকে জিতাবেন। গণমাধ্যম চতুর্দিক থেকে দেখে, যতদিন এভাবে দেখেছে, ততদিন জাতি গতি পেয়েছে। আমি শফিকুর রহমান কালো হলে কালোই বলবেন, ভালোবাসার কারণে সাদা বানাবেন না। তাতে কোনো আপত্তি নেই। এতে আমিও ভুল শোধরাবো। এটা করলে জাতি সঠিক পথে চলবে।’তিনি বলেন, ‘আস্থার সঙ্কট ফিরিয়ে আনতে না পারলে জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। যে দেশের পাসপোর্টের মান সবচেয়ে বেশি, তারাই তত মর্যাদাবান জাতি। যে দেশের পাসপোর্টধারীর বিনা ভিসায় সবচেয়ে বেশি দেশে যেতে পারেন, তারাই সবচেয়ে মর্যাদাবান। সেই জায়গায় আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল।’গণমাধ্যম সবচেয়ে পাওয়ারফুল মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘গণমাধ্যম যতদিন সঠিক পথে থাকে, সেই দেশ ততদিন সঠিক পথে থাকে। সাংবাদিকরা বীরের জাতি। বীররা কখনো হারে না। আপনারা জিতবেন, জাতিকে জিতাবেন।’বক্তব্যের শেষে জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান দৈনিক জালালাবাদ পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। সেইসাথে দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরো শক্তিশালী হোক, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আহবাব মোস্তফা খানের সঞ্চালনায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জালালাবাদের সিনিয়র রিপোর্টার মুনশী ইকবাল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জালালাবাদ সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট প্রেসক্লাব সেক্রেটারি মোহাম্মদ সিরাজুল ইাসলাম প্রমুখ।

শেয়ার: