উত্তরকোণ

২১ দিনে ২০৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ

২১ দিনে ২০৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ

চলতি জুন মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে ২০৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৯৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে জুনে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২১ জুন একদিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। জুন মাসের বাকি দিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২১ জুন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৪৮৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৩৪.৮৪ বিলিয়ন ডলার)। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার (২৯.৫০ বিলিয়ন ডলার)। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বৃদ্ধি, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে দ্রুত অর্থ বিতরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও দ্রুত সেবা প্রদানের কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নির্বাহ, চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের কোটি কোটি পরিবারের আয়-ব্যয়ের অন্যতম প্রধান উৎসও এই প্রবাসী আয়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে শুধু বিদ্যমান শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং উচ্চ আয়ের পেশায় কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার আরও সহজ করা এবং রেমিট্যান্স প্রেরণের খরচ কমানোর উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

শেয়ার: