উত্তরকোণ

লোভ-লালসা উপেক্ষা করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দেশ-জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের

লোভ-লালসা উপেক্ষা করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দেশ-জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের

সংবাদকর্মিদেরকে সবধরনের ভয়ভীতি ও লোভ-লালসা উপেক্ষা করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যেমন কাউকে ভয় পাওয়া যাবেনা, তেমনি ক্ষমতাধর কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তোষামোদিও করা যাবেনা। যা সত্য সেটাই সাহসীকতার সাথে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই সাংবাদিক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরলেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী হবে। কিন্তু তা হয়নি। অবশেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সাথে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দু:খজনক হলো পরবর্তীতে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আবারও সংবাদপত্রের ওপর আঘাত করেন। একের পর এক কালো আইন তৈরি করে গণমাধ্যমকে কোনঠাসা করে রাখেন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলে অগণিত সাংবাদিক হত্যার পাশাপাশি একাধিক সম্পাদককে রক্তাক্ত করা হয়। টেলিভিশন ও পত্রিকা বন্ধ করে হাজার হাজার সাংবাদিককে বেকার করা হয়। গণতন্ত্র হত্যা করে আবারও বাকশাল কায়েমের অপচেষ্টা চালায় হাসিনার সরকার। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের ভয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকারকে আমরা সাংবাদিক বান্ধব সরকার হিসেবে দেখতে চাই। দেশে আর কোন সাংবাদিক খুন হোক কিম্বা লাঞ্ছিত হোক এটা আমরা চাই না। একই সাথে সাংবাদিক সমাজ পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় অপসাংবাদিকতা না করে দেশ ও জাতির কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সভাপতি গনেশ দাস এর সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক এস এম আবু সাঈদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারন সম্পাদক কালাম আজাদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সাবেক সভাপতি মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষ, মতিউল ইসলাম সাদী ও সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, সাবেক সাধারন সম্পাদক এফ শাহজাহান, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব সবুর শাহ লোটাস, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রাহাত রিটু, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ফেরদৌসুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক শামীম আহমেদ, বগুড়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মোস্তফা মোঘল, ইকবাল হোসেন, এস এম সিরাজ, সানাউল হক শুভ, সাইদুর রহমান সাজু প্রমূখ।

শেয়ার: