মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ একসময় উত্তরাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত করতোয়া নদী। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা সেই নদীর বুকেই এবার উঠছে কংক্রিটের স্থাপনা। বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার গুজিয়া এলাকায় করতোয়া নদীর জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক শিবগঞ্জ ইউনিয়নের মেদিনীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বগুড়া নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশায় থাকা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গুজিয়া ঈদগাহ মাঠ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণে গুজিয়া-আমতলী সড়কের পাশে করতোয়া নদী সংলগ্ন জমিতে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে নির্মাণ শুরু হলেও পরে নদীর অংশ ভরাট করে কলাম স্থাপনের মাধ্যমে ভবনের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক সীমানা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর অংশে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কারণে ভবিষ্যতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে। তাদের ভাষায়, “নদী দখলের বিরুদ্ধে সরকার যখন কঠোর অবস্থানে, তখন প্রকাশ্যে নদীর বুকে ভবন নির্মাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে মোঃ আজিজুল হক বলেন, “আমি নদীর জায়গায় বাড়ি করেছি, সেটা প্রশাসন দেখবে। ভেঙে দিলে আমার ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হবে, এর চেয়ে আর বেশি কিছু হবে না।” তার এই বক্তব্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “নদী জনগণের সম্পদ। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে নদী দখল করতে পারে না। অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”এ বিষয়ে মোকামতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উত্তরকোণ
করতোয়া নদী দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

