মাদ্রাসা শিক্ষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষক, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য আয়োজিত ‘উন্নত মৎস্য চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ২৫ জন মাদ্রাসা শিক্ষক এতে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬ জন ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। প্রশিক্ষণে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা, পুকুর প্রস্তুতি, পোনা নির্বাচন, খাদ্য প্রয়োগ ও রোগবালাই দমন কৌশল হাতে কলমে শেখানো হয়। ১১ জুন বৃহস্পতিবার বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) মিলনায়তনে মাদ্রাসা শিক্ষক, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য আয়োজিত ‘উন্নত মৎস্য চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্টানে প্রশিক্ষণদেও মাঝে সার্টিফিকেট বিতারণ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, আরডিএ’র কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক মোঃ ফেরদৌস হোসেন খান বলেন, “কৃষি ও মৎস্য খাতকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা সমাজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশ। তারা বৈজ্ঞানিক মৎস্য চাষে যুক্ত হলে গ্রামে গ্রামে উৎপাদন বিপ্লব ঘটবে এবং প্রান্তিক মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।”কোর্স পরিচালক ড. মাকছুদ আলম খান তার বক্তব্যে বলেন, “এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা। প্রশিক্ষণার্থীরা এখন নিজেরাই একটি খামারের ব্যবস্থাপক। তারা মসজিদ-মাদ্রাসার অব্যবহৃত পুকুরকে সম্পদে পরিণত করে উদাহরণ সৃষ্টি করবেন বলে আমার বিশ্বাস।”এদিকে দাপ্তরিক কাজে একাডেমির বাইরে অবস্থান করায় আরডিএ’র সম্মানিত মহাপরিচালক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “আপনারা শুধু শিক্ষক নন, আপনারা সমাজ পরিবর্তনের কারিগর। আপনাদের সফলতা দেখেই অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে। আরডিএ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।”মোঃ রমজান আলী আকন্দ,জেলা শিক্ষা অফিসার, বগুড়া বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষকরা যখন আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করবেন, তখন মাদ্রাসা হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরির কেন্দ্র। এই প্রশিক্ষণ তাদের সম্মান ও আর্থিক সক্ষমতা দুটোই বাড়াবে।”ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষক জনাব মোঃ শাহ আলম উল্লেখ করেন, “ইসলামে হালাল উপার্জনকে ইবাদতের অংশ বলা হয়েছে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা মাছ চাষ করলে নিজেরা স্বাবলম্বী হবেন এবং এলাকার মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।”সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ মাদ্রাসা অঙ্গনকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
উত্তরকোণ
মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমামদের স্বাবলম্বী করতে আরডিএ’র উন্নত মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

