ময়মনসিংহ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখবো। যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো আমরা। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় ‘ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মালিক জনগণ। বিএনপি সরকার সেই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায় জনগণকে সাথে নিয়ে। আজকে সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যে কাজগুলো সেগুলো একদিকে সফল করা। আরেকদিকে যারা ন্যায় বিচারকে, সঠিক বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যারা মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি চালাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। তারেক রহমান বলেন, এসব অরাজকতা চললে দেশের সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গ্রামীণ নারীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবে না, কৃষকেরা কৃষি কার্ড পাবে না, গ্রামের বাচ্চারা নতুন বই-পোশাক পাবে না। তারা যদি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে, তবে দেশের উন্নয়ন থমকে যাবে। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়। যারা জনগণের পক্ষে কাজ করবে, সরকার কেবল তাদের নিয়েই কাজ করবে। কারণ, দেশের প্রতিটি নাগরিক এই দেশের অংশীদার। দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে এবং সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার রূপরেখা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা পরিবারে হয়তো ৮-১০ জন মানুষ থাকে। বাংলাদেশটাও একটা পরিবার, তবে এর জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সব সুবিধা একদিনে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি। আমাদের লক্ষ্যই ছিল দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। সেই লক্ষ্যেই দেশের ৩ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের জন্য ইতোমধ্যে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা হবে এবং তাদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শিশুদের নতুন স্কুল ব্যাগ, পোশাক ও বই দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধীরে ধীরে মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের গুরুদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা শুরু করেছি। ২০ কোটি মানুষের এই দেশের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে না রেখে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেন তারা দেশে-বিদেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান পায়। দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিএনপির এই পরিকল্পনা সফল করতে হবে। এ সময় ঢাকায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে একটি নিদারুণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এর কঠোর বিচার করা হবে। সব অন্যায়কারীর শাস্তি হবে। তবে আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আইনের দৃষ্টিতে কেউ অপরাধী হলে দেশের প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে অবশ্যই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে এই দেশের মালিক জনগণ। কতিপয় সংখ্যক মানুষ এসে বিভ্রান্তি ছড়াবে আর তারা সফল হয়ে যাবে- মানুষের ভাগ্য নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলবে। এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জনগণের সাথে থাকবে, জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে- বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যেকোনো ষড়যন্ত্রের হাত থেকে। তিনি বলেন, এই দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে, জনগণকে সাথে নিয়ে করতে হবে। নিজের ক্ষেত-খামার, নিজের ঘরবাড়ি যেভাবে নিজে গড়ে তুলেছেন- দেশটাও আমাদের সকলের নিজের। এখানে আমরা যত মানুষ উপস্থিত আছি প্রত্যেকেই হচ্ছে এই দেশের অংশীদার, প্রত্যেকেই হচ্ছে এই দেশের মালিক। কাজেই আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে, আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখবো এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব আমরা। তারেক রহমাান বলেন, আজ থেকে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে বাধাগ্রস্ত করছে, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে- তাদের বিরুদ্ধে আমরা সজাগ থাকবো, সতর্ক থাকবো। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ধরার খাল খনন করেছিলেন। বাবার খনন করা খালটি ৪৭ বছর পর পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টা ২১ মিনিটে এসে পৌঁছান। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে খালপাড়ে এসে পথমেই খাল কাটার উদ্বোধন করেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গফরগাঁও আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।