স্টাফ রিপোর্টারঃ “অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ায় শুরু হয়েছে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬’। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০ টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়া কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন মোঃ তৌফিকুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দুর্যোগের সময় আমাদের পাশে থাকেন ফায়ার ফাইটাররা, এজন্যই তারা ‘লাইফ সেভিং ফোর্স’। যেকোনো দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে সবার আগে মাথা ঠান্ডা রাখা জরুরি। যারা ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তারা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান।” তিনি আরও বলেন, গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ভূমিকম্পের সময় বহুতল ভবনে আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি না করে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এ জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে দুর্যোগ সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়া-এর সহকারী পরিচালক মোঃ রফিকুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। সভাপতির বক্তব্যে সহকারী পরিচালক বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের মূল মন্ত্র ‘গতি, সেবা ও ত্যাগ’—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণকে আরও উন্নত সেবা প্রদানই আমাদের লক্ষ্য। ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই।” প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ১২টি ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলায় বর্তমানে ৩০টি গাড়ি রয়েছে। এছাড়া একটি টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) সংযুক্ত হওয়ায় ৬৮ মিটার বা ২৪ তলা পর্যন্ত অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে ফায়ার সার্ভিস। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালে বগুড়া জেলায় মোট ৬১৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং উদ্ধারকৃত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। একই সময়ে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা ও ১১০টি অন্যান্য দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব ঘটনায় আহত হন ৪২২ জন এবং নিহত হন ৯৭ জন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে ২৪৯ জন রোগীকে পরিবহন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১৮৯ জন ও মহিলা ৬০ জন। এ খাতে ফি আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০ টাকা। বক্তারা আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জান-মাল রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপো অগ্নিকাণ্ড-এ নিহত ১৩ জন ফায়ারফাইটারকে সরকার “অগ্নিবীর” হিসেবে ঘোষণা করে, যা এ বাহিনীর আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়ার উপসহকারী পরিচালক, সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অগ্নিসেনা, এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন । আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ফায়ার ফাইটারদের ব্যবহৃত বিভিন্ন উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের শেরপুর রোড প্রদক্ষিণ করে ফায়ার স্টেশনে এসে শেষ হয়।