উত্তরকোণ

ভুরুঙ্গামারী দুধকুমার নদের সেতু ঝুঁকিতে ফেলে বালু উত্তোলন

ভুরুঙ্গামারী দুধকুমার নদের সেতু ঝুঁকিতে ফেলে বালু উত্তোলন

কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধ:কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত প্রায় ১৩০বছর পুরনো সোনাহাট সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু আরও ঝুঁকিতে ফেলে সেতু থেকে ১৫০শ মিটার দূরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে তিনটি ড্রেজার বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। দুধকুমার নদের তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর তীররক্ষা প্রকল্পের কাছেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে এতে পাউবো কিংবা সড়ক বিভাগ ড্রেজার উচ্ছেদে উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে বলা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ১২০মিটার ভাটিতে দুধকুমার নদের ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্মাণ করছে পাটেশ্বরী সেতু। পাশেই নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ করছে পাউবো। দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট রেলওয়ে সেতু বিভিন্ন মালবাহী ভারী যান চলাচলসহ সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর ও কয়লাবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে শতবর্ষী সেতুটি বর্তমানে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় করিম, মোজাফফর হোসেন, মাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে পাউবো ব্লক ফেলে দুধকুমার নদের ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছে। অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই এবং নদের পূর্ব পাশে অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাসুদ রানা। ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সোনাহাট সেতু আরও ঝুঁকিতে পড়ছে। পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তীর রক্ষার কাজ। শুধু সেতু কিংবা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প নয়, ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও ভুট্টা ক্ষেত। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় জাকারিয়া হোসেন বলেন, ড্রেজার মালিক মাসুদ রানা বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। কিন্তু সেতু আর তীর রক্ষা প্রকল্পের এত কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। কুড়িগ্রাম সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সোনাহাট সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য আমরা এর কাছেই নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবো। কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাছ থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার নিয়ম নেই। আমি লোক পাঠিয়ে এটি দ্রুত বন্ধ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রি বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার: