ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ- দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন তেলের পাম্পে বেশ কয়েকদিন পর হঠাৎ পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ হওয়ায় ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহনের চালকদের। রবিবার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য আলাদা লাইনে শত শত মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছে। মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে জানান, ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ চালকরা। আরেকজন বলেন, “অনেককেই দেখছি একবার মোটরসাইকেল এনে তেল নিয়ে আবার বোতল নিয়ে এসে তেল নিচ্ছেন। অথচ আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন।” পাম্প মালিকরা বলছেন, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ গত কয়েকদিন ধরে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে, যার কারণে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসন পাম্পগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। কোথাও যেন পেট্রোল বা অকটেন মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কড়া মনিটরিং চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলের চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন জরিমানা আরোপ করলেও লাইনের দৈর্ঘ্য ঠেকাতে পারছে না। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পে ভিড় লেগেই থাকছে। এছাড়া একই ব্যক্তি একাধিকবার বিভিন্ন কৌশলে তেল সংগ্রহ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কেউ মোটরসাইকেলে তেল নিয়ে বাড়িতে মজুত রাখছে, আবার পরে বোতল নিয়ে এসে পুনরায় তেল সংগ্রহ করছে। এতে করে সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্যভাবে তেল পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং লাইনে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরিমানা করা হচ্ছে। তবুও অতিরিক্ত চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পরবে বলে জানান, এদিকে পেট্রোল ও অকটেন সংকটের কারণে মোটরসাইকেল নিভর যাতায়াতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। চালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।
উত্তরকোণ
ঘোড়াঘাট পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট

