1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তির দিকে এগোচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১ জুন বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা: প্রধানমন্ত্রী দেশে হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি ১ জুন উপাত্ত ছাড়া যে কোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত : তথ্যমন্ত্রী বগুড়ায় গঠিত হচ্ছে ওয়াসা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ ঃ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম দেশব্যাপি চলমান শিশু নির্যাতন ও ধর্ষন এর প্রতিবাদে মানববন্ধন

গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ: দম্পতি হেনা জামান ও পুলিশ কনস্টেবল কামরুজ্জামান শিহাবের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

  • সম্পাদনার সময় : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার প্রদশিত হয়েছে

গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযুক্তরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামান শিহাব ও তার স্ত্রী হেনা জামান। বুধবার (২১ মে) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের ভুক্তভোগী পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর, আশুলিয়া, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত বা অচল গার্মেন্টস কারখানার ফ্লোর ও টিনশেড ভাড়া নিয়ে সেগুলো সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করতেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অংশীদার, শেয়ারহোল্ডার কিংবা বিনিয়োগকারী বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই চেক ডিজঅনার হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর ব্যবসায় লোকসান, করোনা মহামারি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হতো। পরবর্তীতে পাওনাদাররা টাকা চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা, ভয়ভীতি ও হয়রানির আশ্রয় নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. শামছুল ওয়াহেদ খন্দকার জানান, তিনি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা। ২০২২ সাল থেকে চারটি চেকের বিপরীতে চার ধাপে তিনি মোট ৫৫ লাখ টাকা হেনা জামানকে দেন। তাকে একটি গার্মেন্টস কারখানার অংশীদার ও চেয়ারম্যান করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে তিনি প্রতারণার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
আরেক অভিযোগে বলা হয়, গাজীপুরের ভিমবাজার এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গার্মেন্টস কারখানা নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে নেত্রকোনার পূর্বধলার ব্যবসায়ী আলহাজ শোয়াইব আহমেদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত মালিক না হয়েও কারখানাটির মূল্য চার কোটি টাকা দেখিয়ে দুই কোটি টাকা গ্রহণ করা হয়। পরে তদন্তে প্রকৃত মালিক হিসেবে ইব্রাহীম নামের এক ব্যক্তির তথ্য উঠে আসে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
এছাড়া আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় প্রায় ২০ লাখ টাকায় কেনা একটি টিনশেড কারখানার মূল্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকা দেখিয়ে শোয়াইব আহমেদের কাছ থেকে ৯০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়। ওই কারখানার নাম পরিবর্তন করে “নিউ বিডি নিট গার্মেন্টস” রাখা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আর্থিক অসঙ্গতি ও অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে ভুয়া ভাউচার তৈরির অভিযোগে অংশীদারদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
শোয়াইব আহমেদ অভিযোগ করেন, কারখানার প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কম মূল্যের মেশিন বেশি দামে কেনা দেখিয়ে ভুয়া ভাউচার তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বেবী নাজনীন ময়না নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, হেনা জামান তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি ঢাকার আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কামরুজ্জামান শিহাব নিজেকে অনেক সময় “ডিবি পুলিশের এসআই” পরিচয় দিতেন। যদিও তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কনস্টেবল এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীরা জানান, অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক চেক ডিজঅনার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অর্থ আত্মসাতের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লাখ, ৪০ লাখ, এক কোটি ৫০ লাখ ও পাঁচ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা ছাড়াও প্রতারণা ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যারা টাকা ফেরত চাইতেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই উল্টো মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো। পুলিশি প্রভাব খাটানোর ভয় দেখানো, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং মিথ্যা সাক্ষী দাঁড় করানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ নামের এক ভুক্তভোগীর প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। অভিযোগ করা হয়, তার কাছ থেকেও প্রায় ২৪ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং পরে তাকে ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন হলফনামা ও মামলায় সাক্ষী হতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে অভিযুক্তদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা না থাকলেও তাদের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এলাকায় জমি, বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট, উত্তরা এলাকায় বাসা এবং অভিজাত জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একজন কনস্টেবল হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় এত সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত হেনা জামান ও কামরুজ্জামান শিহাবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies