পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে ব্যস্ততা বেড়েছে বগুড়ার অর্ধলক্ষাধিক খামারী ও কোরবানির পশুর হাট গুলোতে। বগুড়া জেলার ছোট-বড় অর্ধলক্ষাধিক খামার এবং কৃষকের গোয়ালে এবার কোরবানির জন্য ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ভালো দাম পাওয়ায় পশু পালনে আগ্রহ বেড়েছে খামারীদের। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও গরু লালন পালন হচ্ছে। প্রাকৃতিক খাবারে লালনপালন করা পশু নিয়ে কুরবানী উপলক্ষে ভালো দামের প্রত্যাশা খামারীদের। এদিকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করায় খামারীসহ গবাদি পশুর উৎপাদন বেড়েছে। এরই মধ্যে হাটের পাশাপাশি খামার থেকেও সরাসরি পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।
কুরবানীকে ঘিরেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বগুড়ার খামারীরা বিদেশী জাতসহ দেশী জাতের গরু লালন পালন করেছে। প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়েই ভারতীয় শাহীওয়াল, নেপালের গীর, ভুট্টি, সিন্ধি সহ দেশীয় জাতের গরু ছাগল পালন করে এখন ভালো দামের প্রত্যাশা করছেন খামারীরা। প্রতিবছরই ঈদ এলে গরু বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন তারা। ছোট-বড় খামারের পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকেন প্রান্তিক খামারীরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, কুরবানির জন্য জেলায় ৫১ হাজার ৭৬৪ জন খামারি এবছর ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এবছর বগুড়ায় কুরবানির পশুর চাহিদা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। চলতি বছরে জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুতকৃত পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৭টি। এবার গরু রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি, মহিষ ২ হাজার ১৫৫টি, ছাগল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি, ভেড়া ৫৪ হাজার ২৯টি। নিয়মিত এসব খামার মনিটরিংসহ পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক খাবারে গরু ছাগল লালন পালনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। চাহিদার বেশি কুরবানীর পশু রয়েছে জেলায়। জেলার চাহিদা পূরণ করে সারাদেশে যাবে বগুড়ার খামারীদের পশু।
ভোগান্তি এড়াতে অনেক খামারি এবারও অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই পশু বিক্রি করছেন। খামার থেকেই সরাসরি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। হাটে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও বাজারে সব আকারের গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।