মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীর বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার এখনো উদ্ধার করা যায়নি। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেফতার তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল আলিম (২৮) ও বাবা খলিলুর রহমান (৪৮)। মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় ইয়াসমিন খাতুন ও তাঁর স্বামী এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে বাগমারার এক সাংবাদিকের বাড়িতে যান। তাঁরা নিজেদের ওই সাংবাদিকের প্রয়াত বড় ভাইয়ের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। বড় ভাই জীবিত অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য ছিলেন। আত্মীয় পরিচয় ও মানবিক কারণে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের রাতযাপনের সুযোগ দেন। পরদিন সকালে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর গৃহকর্ত্রী রাহামা বিবি ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা তাঁর ও কলেজপড়ুয়া মেয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার খুঁজে পাননি। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তালা খুলে স্বর্ণালঙ্কারগুলো চুরি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বাগমারা থানায় মামলা হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন ও এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নাটোর থেকে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। রাহামা বিবি বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তাঁর পেনশনের টাকা দিয়ে মেয়ের জন্য গহনা বানিয়েছিলাম। আমার নিজের গহনাও ছিল। আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এসে প্রতারকরা সব নিয়ে গেছে।
বাগমারা থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া চক্রটি রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় একই কৌশলে চুরি ও প্রতারণা করে আসছিল। তাঁদের গ্রেফতারের পর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে পুলিশের আশা।
উত্তরকোণ
আত্মীয় পরিচয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি; গ্রেফতার-৩
