করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং গণপরিবহনে যাত্রী অর্ধেকসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণায় সভায় এই ১১ দফা নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে সর্বসামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া সরকারি বিধিনিষেধে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, করোনার টিকার সনদ নিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণ, টিকার সনদ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি শনিবার দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবধরনের সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধের সুপারিশ করে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অব্যাহতভাবে সংক্রমণ বাড়ছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় আবিষ্কৃত করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। ওমিক্রন এখনো দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ না করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যারিয়েন্টটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। সেই ধাক্কা বাংলাদেশেও আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১১ দফায় যা বলা হয়েছে: ১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন রোধে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ৩. বেঁস্তোরায় বসে খাবার খেতে এবং আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে অবশ্যই টিকা সনদ দেখাতে হবে। 8. ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পোর্টগুলোতে ক্রুরা জাহাজের বাইরে আসতে পারবে না। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালক থাকতে পারবেন। কোনো সহকারী আসতে পারবেন না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীরা বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন না। ৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে টিকা সনদ থাকতে হবে। ৭. বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক টিকা সনদ দেখাতে হবে এবং Rapid Antigen Test করতে হবে। ৮. স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরার বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামগণ সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। ৯. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সহায়তা করবে। ১০. সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।১১. কোনো এলাকায় বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে।