ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী জোট বাধা, ক্ষমতার শরিক হয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে এই সম্পর্ক দলটির জন্য ক্ষতিই বয়ে এনেছে। রোববার রাজধানীতে জাতীয় পার্টির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে আমরা এক তরফা প্রেম করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাই আগামীতে নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাবে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সাথে আমাদের সমর্থন নেই।’ বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার বক্তব্যেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে এসেছে বিস্তর অভিযোগ। জি এম কাদের বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর হামলা, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের মাঠে দাঁড়াতে দিতে চাচ্ছে না, পাশাপাশি নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হতে সরকার সমর্থকরা সব ধরনের অনিয়ম করছে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, খাবার ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নেই। রাস্তায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, যেন দেখার কেউ নেই। তিনি বলেন, গণপরিবহন কারা পরিচালনা করে তা কেউ জানেনা। গণপরিবহন পরিচালনায় সরকারের কোনো হাত নেই তা বোঝাই যায়। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, যারা গণপরিবহন পরিচালনা করেন তারাই সরকার পরিচালনা করেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি দল আনন্দ-ফুর্তি করতে মাঝে মাঝে রাস্তা দখল করে। এসময় লাখো মানুষ সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়। অসুস্থ রোগীরা হাসপাতালে যেতে পারে না। পরে সরকারি দলের পক্ষ থেকে একটি দুঃখ প্রকাশ করা হয়, যেন তাদের ফুর্তি করাটাই সবচেয়ে জরুরি।’ এসময় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জি এম কাদের বলেন, ‘যে মুক্তির জন্য দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে, ত্রিশ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছে, লাখ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম দিয়েছে সেই মুক্তি আমরা আজও পাইনি। তাই মুক্তির সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। আবারও মুক্তির সংগ্রাম শুরু করতে হবে। এবারের মুক্তির সংগ্রাম হয়তো আরও কঠিন হবে। মুক্তি সংগ্রামে হয়তো আরও বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, আরও বেশি রক্ত দিতে হবে।’ জি এ কাদের জানান, সোমবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে জাতীয় পার্টির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যাবেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পরে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএম আব্দুল মান্নান, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শেরীফা কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।