আজ বৃহস্পতিবার ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম গৌরব ও অহঙ্কারের দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে এ জাতির বীরত্বের আত্মপ্রকাশের দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিজয়ের গৌরবের বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। একই সঙ্গে আজ লাখো স্বজন হারানোর শোকে ব্যথাতুর-বিহ্বল হওয়ারও দিন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিদের সকাল ৬টার পরিবর্তে সোয়া ৭টা থেকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুধবার রাতে এক জরুরি তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়- মহান বিজয় দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে এই অনুষ্ঠানে সকাল ৬টার পরিবর্তে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে উপস্থিত থাকার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অসহায় নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতিকে কোনো দিক-নির্দেশনা না দিয়েই শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের কাছে গ্রেফতার বরণ করেন। ওই অবস্থায় জাতি যখন দিশেহারা ঠিক এমনি এক অমানিশার ঘোর অন্ধকারে বিদ্যুৎ চমকের মতো ঝলসে উঠলো প্রকৃতি ও মানুষ। বাতাসের প্রতিটি তরঙ্গে কান পেতে সবাই শুনলোÑ‘উই রিভোল্ট’। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আর্মি চিফ হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের এই গৌরবান্বিত বিজয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একাত্তর সালের এদিনে ঢাকার ওই সময়ের রেসকোর্স ময়দানে (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করে। ৯ মাসের রক্তয়ী যুদ্ধ শেষে জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। সেদিন জাতি নির্ভয়ে গেয়ে উঠেছিল বিজয়ের অবিনাশী গান। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর এ জাতির অহঙ্কারের বিজয় দিবস। গণতন্ত্র রক্ষায় সাধারণ জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় শুরু হওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামের আজ বিজয়ের ৫১তম বর্ষে এসে ভূলুন্ঠিত জনগণের ভোটের অধিকার। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কূটকৌশলে হরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। কৃতজ্ঞ জাতি আজ দিনভর বর্ণাঢ্য আয়োজনে সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে একাত্তর সালে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। নতচিত্তে স্মরণ করবে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া শহীদদের। আজ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে তারা শহীদদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। বিজয় দিবস উপলে ভোর থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়াসহ ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। দিবসটি পালন শুরু হবে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে। বিজয় দিবস উপলহ্মে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। দেশের বড় বড় শহরে প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সাজানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। সারাদেশে চলবে আজ বিজয়ের আনন্দ অনুষ্ঠান। ঢাকার বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোও আজ বিজয় দিবসে বন্ধ থাকবে। বিদেশেও বাংলাদেশি মিশনগুলোয় বিজয় দিবসের কর্মসূচি উদযাপিত হচ্ছে। দেশের সংবাদপত্রগুলো আজ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। বিটিভি, বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার দেয়া হবে।