কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি: ভুরুঙ্গামারীর বাঁশজানী ঝাকুয়াটারী গ্রামের মাদক সম্রাট শামীম হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন পত্রিকার ও টিভি সাংবাদিক পরিচয় দেয়াসহ বিএনপির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সিনিয়র সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে দাপটের সাথে ভারতীয় মাদকদ্রবসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের ব্যবসার সাথে জ্বড়িত এবং সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভূয়া সাংবাদিক শামীম হোসেনের মাদকের ছোবলে ক্রমনয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ। এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়ে সীমান্ত দিন দিন উত্তেজনা বাড়ছে। জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাশজানী ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদ সংলগ্ন বাংলাদেশ ও ভারত সীমানার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৭৮-এর সাব পিলার ৯ এসের পাশে নেই কাঁটাতারের বেড়া আর এ সুযোগে (আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৭৮-এর সাব পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশেের অভ্যন্তরের সীমান্ত ঘেষাঁ পশ্চিমে ভারত এবং পার্শ্ববর্তী মাত্র ২০গজ দক্ষিণে ঝাকুয়াটারী মসজিদের পাশে ফজরত আলীসহ বেশ কয়েক জনের বসতবাড়ি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, ঝাকুয়াটারী গ্রামের শামীম হোসেন বিএনপির দপট এবং ভূয়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিজেই মাদক ও চোরাই মোবাইল ব্যবসা করে আসছেন। পাশাপাশি ভুয়া সাংবাদিক শামীমের সার্বিক সহযোগিতা ও মদদে ফজরত আলীর ছেলে বাঁশজানী ঝাকুয়াটারী সীমান্তের কালোবাজারি ও মাদক সম্রাট মাইদুল ইসলামের বসতবাড়ি সীমান্ত ঘেষাঁর সুবাধে দীর্ঘদিন ধরে তার বসতবাড়ির দক্ষিন দুয়ারী ঘরে একটি দোকান দিয়ে মাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীসহ ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন কসমেটিক্স, বিস্কিট, শুটকি, তেল, খেজুর আঙ্গুর, আপেল, কমলা, মুভ, ঝান্ডুবাম, সিগারেট এবং বিভিন্ন প্রকারের নামধারী কোম্পানির ঔষধ এবং বিভিন্ন ভারতীয় চোরাই নামী-দামী কোম্পানির মোবাইল অবাধে বিক্রি করে আসছেন। তার দোকানে প্রতিদিন শহর থেকে ৪০/৫০টি মোটরসাইকেল যোগে যুবক গিয়ে প্রকাশ্যে ভারতীয় মাদকসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় করছেন। এতে প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় ৩লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা।
সীমান্তে ভিডিও সাংবদ সংগ্রহকালে কালোবাজারি ও মাদক সম্রাট মাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের আটকাতে ষড়যন্ত্র করেন অতঃপর রিপোর্ট সংগ্রহ শেষে ফেরার পর সীমান্তের অপরাধের ভিডিওগুলো প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হলে মাদক সম্রাট মাইদুল ইসলামের সহযোগী বাঁশজানী ঝাকুয়াটারী গ্রামের মাদক সম্রাট ও ভূয়া সাংবাদিক শামীম হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে এ প্রতিনিধিকে ভিডিও ডিলিট এবং নিউজ না করার জন্য বাঁশজানী ঝাকুয়াটারী গ্রামের মাদক সম্রাট শামীম হোসেন মোবাইল ফোনে বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করেন। এমন কি বিএনপির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শফি খান ও চ্যানেল ২৪ এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি গোলাম মাওলা সিরাজসহ বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে দাপটের কথা বলেন। গত ১৮মার্চ ২০২৬খ্রি.ফেসবুক নাম (Samim Hosen, লিংক- https://www.facebook.com/100015218737718/posts/2450291975488070/?app=fbl) তার ফেসবুক আইডিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অমান্য করে “কুড়িগ্রামে কথিত হলুদ সাংবাদিকদের চাঁদাবাজির অভিযোগে অতিষ্ঠ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পুলিশ এবং বিজিবিদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা” মূলত সাংবাদিকদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন, পেশা দায়িত্বে প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা অপপ্রচার এবং মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন একটি লেখা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কারো অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা বা পোস্ট করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অপরাধ এবং ফেসবুকে লেখা ভুয়া নিউজ ও গুজব ছড়ালে বা মিথ্যা খবর পোস্ট করলে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির বিধান ও গুরুতর অপরাধ। এর জন্য অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ালে সর্বোচ্চ ১৪বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। মাদক সম্রাট ও ভূয়া ফেসবুক সাংবাদিক শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
কালোবাজারি ও মাদক সম্রাট মাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে এ প্রতিনিধিকে সংবাদ প্রচার না করার জন্য ভুয়া সাংবাদিক শামীমের দাপট খাটিয়ে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি হুমকি প্রদান করেন।
পাথরডুবি ইউনিয়ন লিডার হিসেবে নিজের দাবি বিএনপির শিষ্য নেতা এবং ভুয়া সাংবাদিক শামীম হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের শফি খান এবং চ্যানেল ২৪ এর সাংবাদিক গোলাম মাওলা সিরাজ আমার গুরু বলে পরিচয় প্রদান করেন এবং তিনি নিজেও একজন বড় পত্রিকার সাংবাদিক। তিনি আরো বলেন, সীমান্তে ছোটখাটো মাদক ব্যবসা ও ভারতীয় অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা হয়। আওয়ামী লীগ সময়ে বিএনপি করার কারণে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। বিএনপি এসে গেছে তাই এগুলো অপরাধ ব্যবসা আমার নিয়ন্ত্রণে। সংবাদ পরিবেশন করলে আপনাদের যেখানে পাবো হাত পা কেটে হত্যা করবো এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে বাধ্য থাকবো। দেশ এখন আমাদের এবং আমরাই চালাবো। পাথরডুবি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ভুয়া সাংবাদিক এবাং নামধারী বিএনপি নেতা শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর খাওয়াসহ বিভিন্ন সম্মুখীন হতে হয়। কারণ শামীম হোসেন প্রভাবশালী হওয়ার দাপটে নিজে মাদক, চোরাই মোবাইল ও ভারতীয় অন্যান্য পণ্যর ব্যবসা করেন এবং পাশাপাশি মাইদুলসহ বিভিন্ন জনকে মাদক ব্যবসা, চোরাই মোবাইল ও ভারতীয় অন্যান্য পণ্যর ব্যবসার সার্বিক সহযোগিতা করেন। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য অন্য বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন বলেন, ভিডিও তথ্য পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কুড়িগ্রামের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক, (পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স) বলেন, শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভিডিও তথ্য পেয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে