বগুড়া : বগুড়া শহরে মাংস সমিতির নামে বছর জুড়ে সঞ্চয়ের টাকা তুলে ঈদের আগে উধাও হয়েছে জামায়াতের এক স্থানীয় নেতা। শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায় ফোরস্টার সঞ্চয় সমিতি এই প্রতারণা করে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালগ্রাম এলাকার তিন জন ব্যক্তি ফোরস্টার সমিতি পরিচালনা করতেন। তাদের একজন হলেন জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম। বাকি দুজন একই এলাকার আকরাম ও শাহিন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সমিতির গ্রাহকরা মাংস নিতে এসে বিষয়টি জানা জানি হয়। সমিতির সদস্যদের দাবি, ১২শ-১৩শ পরিবারের প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সমিতির পরিচালকরা। বছর জুড়ে টাকা সঞ্চয় করে মাংস না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন আগে মালগ্রাম নতুন পাড়া এলাকায় স্থানীয় আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন ফোর স্টার বিজনেস সঞ্চয় সমিতি গড়ে তোলেন। এই সমিতি ঈদকে কেন্দ্র করে সঞ্চয় চাঁদা তোলে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে টাকা জমা রেখে বছর শেষে ঈদের জন্য মাংস নিয়ে থাকে সমিতি থেকে। সমিতির সদস্যরা জানান, মালগ্রামের কয়েক পাড়া মিলে প্রায় ১২শ পরিবার এই সমিতির সদস্য। প্রতি কার্ডের মূল্য ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার দুই থেকে তিনটি পর্যন্ত কার্ড নিয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৭৭ লাখ টাকা সমিতির হিসাবে জমা হয়েছে এবার। এই টাকা সমিতির চাঁদা উত্তোলনকারীর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে তারা দিয়ে থাকেন। গত রোববার (১৫ মার্চ) মাংস দেয়ার কথা ছিল। সেদিন দিতে পারেনি। পরবর্তীতে আজকে মাংস দেয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করে তারা উধাও হন। পারুল নামে মালগ্রাম চাপড়পাড়ার বাসিন্দা ১০ হাজার টাকার সঞ্চয়ী হিসাব খুলেছিলেন। তিনি জানান, চাপড়াপাড়ার ৭৫০ জন মানুষ বই করেছিল এই সমিতিতে। কেউ ৫ হাজার টাকার, কেউ ১০ হাজার টাকা। প্রতি সপ্তাহে সবাই কাজ করে ১০০-১৫০ টাকা করে সঞ্চয় করত যেন ঈদের আগে পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করতে পারে। আর এরা সেই গরীবের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। আখলি বেগম নামে সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা প্রতি সপ্তাহে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করতেন। তিনি জানালেন, এসেছিলাম ১০-১২ কেজি মাংস পেতাম। এখন যা বুঝতেছি এবার ঈদে আর মুখে মাংস উঠবে না। আসার পর শুনতেছি, তারা এলাকায় নেই। নেই বলা হয়েছে, আর কোনো খোঁজ নেই। ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ এবং পরিচালকরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য তাদের বক্তব্যও নেয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী সদস্যের দাবি, জামায়াতের নেতা হিসেবে হাকিম সমিতি গড়ে তুলেছিল। তারা বাড়ি থেকে টাকা তুলত। তাদের সঞ্চয় করা টাকা দ্রুত ফেরত দেয়া হোক। এ জন্য তারা প্রশাসনের সহায়তায় কামনা করছেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। বগুড়া সদর থানার আওতাধীন স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, মালগ্রাম এলাকায় একটি সমিতি মাংস দেয়ার নামে প্রতি সপ্তাহে টাকা তুলত। আজ তাদের বিতরণের দিন ছিল। কিন্তু তারা সেটা দিতে না পেরে উধাও হয়ে গেছে। আমরা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের পরামর্শ দিয়েছি থানায় অভিযোগ দিতে। অভিযোগ অনুযায়ী আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।