পাবনা প্রতিনিধি: নরসিংদীতে বাবা-মেয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদী ও নাতনীকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ, দাদীকে হত্যার পর নাতনীকে ধর্ষণ ও মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনো হত্যার কারণ জানাতে পারছে না কেউ। দাদী-নাতনীর হত্যার নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতের পর কোনো এক সময় ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে। এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত দাদী সুফিয়া বেগম (৭০) ওই গ্রামের মৃত নজিমুদ্দিনের স্ত্রী। তার নাতনী জামিলা আক্তার (১৫) একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। সে কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ছিল। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন দাদী সুফিয়া বেগম ও তার নাতনী জামিলা। মধ্যরাতের পর হঠাৎ তাদের বাড়ি থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় প্রতিবেশীরা৷ কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পায়নি। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে যে যার বাড়িতে চলে যায়। সকালে বাড়ির প্রবেশমেুখে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। আর নাতনী জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে মরদেহ উদ্ধার করে। জানতে পেরে এলাকাবাসীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের ভীড় জমে। স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠে গ্রামের বাতাস। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো গ্রামবাসী। কেউ বুঝতে পারছে না কি কারণে, কারা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, মধ্যরাতের পর কয়েকজন দূর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে জামিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। দাদী বাধা দেয়ায় প্রথমে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার নাতনী জামিলাকে ধর্ষণের পর তাকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দূর্বৃত্তরা। শেষে বাড়ির পেছনে সরিষা ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। প্রতিবেশী নাসিমা খাতুন জানান, নিহত বৃদ্ধা সুফিয়ার সাথে গ্রামের কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তার নাতনী জামিলা কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ও হাফেজ ছিল। গ্রামের গৃহবধূদের নিয়ে তারাবি নামাজ পড়তো। যারাই এ ঘটনায় জড়িত তাদেরও ফাঁসি হওয়া দরকার। নিহত সুফিয়া বেগমের বোন কুরসী খাতুন বলেন, সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি আমার বোনের লাশ গেটের সামনে পড়ে আছে। আর নাতনীর লাশ টেনে হিঁচড়ে বাড়ির পেছেনে বেশ খানিক দূরে সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখছে। মেয়েটার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। কারা যে এমন সর্বনাশ করলো তাদের বিচার চাই। মৃত্যুর বদলে মৃত্যু চাই। জামিলার বড় বোন মিনু খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখি আমার দাদীর লাশ উঠানে পড়ে আছে। আর আমার বোনের লাশ মাঠের মধ্যে পড়ে আছে। আমার দাদী বা বোনের কোনো শত্রু ছিল না। তারা তো কারো অন্যায় করেনি। কারা এত শত্রুতা করলো কিছুই বুঝতে পারছি না। এদিকে, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে পুলিশ। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শণে যায় সিআইডির একটি টিম। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, নিঃসন্দেহে এটি জঘন্যতম ঘটনা। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্ত করছি। পুলিশের বিভিন্ন উইং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করছে। কি কারণে হত্যাকান্ড, কারা জড়িত সেটি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে খুব শিগগরি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের স্বামী নজিমুদ্দিন ৭ বছর আগে মারা গেছেন। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। আর একই বাড়িতে থাকতেন তার নাতনী জামিলা আক্তার। সুফিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জয়নাল আবেদীন আগে বিভিন্ন গাড়ির চালক ছিলেন। বর্তমানে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রথম রোযার দিন বাড়ি থেকে চলে গেছেন। তার স্ত্রী শিরিনা খাতুন ৬ বছর আগে তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। জামিলার বয়স তখন ৫-৬ বছর। তখন থেকেই দাদীর কাছে বড় হয়েছে জামিলা। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।