বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। এবার এই দেশকে পুনর্গঠন করা হবে।’ শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা, যাতে এ অঞ্চল আবার শস্য-শ্যামল হয়ে উঠতে পারে এবং খাল-বিলগুলোতে পানি ফিরিয়ে এনে কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে মানুষের পানির সঙ্কট দূর করা যায়। তারেক রহমান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন দেশকে পুর্নগঠন করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলো। তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি, একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অধিকার থেকেও অনেক পিছিয়ে গিয়েছে।’তিনি বলেন, ‘দেশে তরুণ যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যুবক ও তরুণদেরকে ট্রেনিং দিয়ে তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ উত্তরাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনী যান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন বেলা পৌনে ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা মঞ্চে ওঠেন তিনি। মাঠ প্রাঙ্গণে আসতেই হাজার হাজার নেতা-কর্মী করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তারেক রহমান হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান। তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের দেশকে গঠন করতে হবে। এখন আমাদের দেশকে তৈরি করতে হবে। এই দেশের অর্থনীতিকে এই দেশের গণতন্ত্রকে আমাদেরকে মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে এই দেশের মানুষের সামনে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি হয়। ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। তখন আমরা দেখিনি কে মুসলমান কে হিন্দু কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্টান। ২৪ সালে যখন রাজপথে আন্দোলনে সবাই নেমে এসেছিল তখনো দেখিনি কে মুসলমান কে হিন্দু কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্টান। এই দেশের মানুষ আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও আমরা চাই প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এই দেশে বসবাস করবে। তিনি বলেন, ‘যে যার যোগ্যতার ভিত্তিতে, যে যার মেধার ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে তার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে, ধর্ম দিয়ে কোনো বিচার করা হবে না। সেই রকম একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে। সেরকম বাংলাদেশ করতে হলে বিএনপিকে সবসময় সকল জনগণ পাশে পাবে। তাই আসুন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য আজকে এই জনসভায় শপথ নেই। এই জনসভা হোক সেই শপথের জনসভা। যেই জনসভায় আমরা সবাই শপথ নেবো যে, আমরা আগামী দিনে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও মতের মানুষ একসঙ্গে কাজ করবে। একসঙ্গে আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।’ ধানের শীষে ভোট চেয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসন, পঞ্চগড়ের দু’টি আসন ও দিনাজপুরের একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে ধানের শেষ প্রতীক তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দিয়েছি। এই প্রত্যেকটি মানুষকে আপনারা ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখবেন। ১২ তারিখে তারা নির্বাচিত হলে তাদের দায়িত্ব হবে আপনাদেরকে ২৪ ঘণ্টা দেখে রাখা। এলাকাকে দেখে রাখা ও এলাকার মানুষকে দেখে রাখা।’ তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর দেশ পুনর্গঠনে হাত দেয়ার ‘ তিনি বলেন, ‘দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়তে চাই, এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। যার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ-সার-ফসলের বীজ পাবেন।’ ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।’
বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা, যাতে এ অঞ্চল আবার শস্য-শ্যামল হয়ে উঠতে পারে এবং খাল-বিলগুলোতে পানি ফিরিয়ে এনে কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে মানুষের পানির সঙ্কট দূর করা যায়। শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, অনেক মানুষ তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। নীলফামারীর মানুষও এই নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। রাতের আঁধারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যার অপরাধ ছিল জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার কথা বলা। তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচনে দেশের মানুষ আবার ভোট দেবে এবং তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তবে শুধু ভোট দিলেই চলবে না, এই নির্বাচনকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে দেখতে হবে। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।” নারী ও কৃষকদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের নারীদের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে খেটে খাওয়া পরিবারগুলো মাসিক সরকারি সহায়তা পাবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে কৃষিঋণ, বীজ, সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পাবে। পাশাপাশি বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। তিনি আরো বলেন, সমাজে এমন একটি শ্রেণি আছে যাদের অবদান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত—মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জেমসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুরা। তাদের অনেকেই কষ্টকর জীবন যাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি মহল সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিতে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা ভোটারদের ভয় দেখাবে বা বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা ধর্ম-বর্ণ না দেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমেছিল। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি, রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি।” কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড আরো সম্প্রসারণ করা হবে এবং নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। এ ছাড়া নীলফামারীতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং পুরো অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি। নীলফামারী-দিনাজপুর অঞ্চলকে আর অবহেলিত রাখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। সমাবেশ শেষে নীলফামারী-১ আসনে জোট প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মঞ্জুরুল আলম আফেন্দী, নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী এবং নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম প্রমুখ।