শহিদুল ইসলাম শাওন, শেরপুর (বগুড়া): সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একান্নটি শক্তিপীঠের অন্যতম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রী শ্রী মা ভবানীর মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব। প্রতি বছর মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথি অনুযায়ী এই পুণ্যতিথিতে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন পুণ্যস্নান ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিলে অতীত জীবনের পাপ মোচনসহ পুণ্যলাভ হয়, এই বিশ্বাস থেকে সূর্যোদয়ের পর থেকেই মন্দিরের শাঁখারি পুকুরে পুণ্যস্নান ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মাঘী পূর্ণিমা উৎসবকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থীর আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় জেলা-উপজেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। মন্দির চত্বরে দই-মিষ্টি, চিড়া-মুড়কি, ঝুড়িসহ পূজার নানা সামগ্রীর দোকানে ছিল জমজমাট বেচাকেনা। মন্দির কমিটির তত্ত্বাবধায়ক অপূর্ব চক্রবর্তী জানান, যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় তিথি অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার ভক্তসমাগম কিছুটা কম ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে আগত ভক্ত সুকুমার রায় বলেন, “প্রতি বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে পুণ্যস্নান করতে আসি। পূর্বপুরুষের আমল থেকেই আমরা এই মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে অংশগ্রহণ করে আসছি। মায়ের প্রসাদ ও আশীর্বাদ লাভের আশায় এবারও এসেছি।” শেরপুরের স্থানীয় ভক্ত অসীম সরকার বলেন, “মা ভবানীর কাছে পূর্বে প্রার্থনা করে আমার মনোবাসনা পূরণ হয়েছে। সেই বিশ্বাস ও ভক্তি থেকেই প্রতি বছর মায়ের মন্দিরে আসি।” রাজশাহী থেকে আসা শাঁখা বিক্রেতা সুমতি রাণী হালদার বলেন, গত ২৫ বছর ধরে তিনি এই মেলায় নারীদের জন্য বাহারি নকশার শাঁখা বিক্রি করে আসছেন। তবে এবছর তুলনামূলকভাবে বিক্রি কিছুটা কম বলে জানান তিনি। মিষ্টি ব্যবসায়ী রমেশ সাহা বলেন, একদিনের এই মেলায় প্রায় ১০০ মণ দই এবং ১৫০ থেকে ২০০ মণ মিষ্টি বিক্রি হয়। দই প্রতি সরা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সন্দেশসহ বিভিন্ন মিষ্টি প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি মন্দির কমিটির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, ভবানীপুর মা ভবানীর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দিবাগত রাত পর্যন্ত বহাল ছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবটি সম্পন্ন হয়েছে।