বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বগুড়াকে বিতর্কিত করা যাবে না। ১৭ বছর শুধু বগুড়া নয়, সারা দেশ বঞ্চিত হয়েছে। ‘আল্লাহ চাইলে সরকার গঠন করলে, শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। ইনশাল্লাহ্ বিএনপি সরকার গঠন করলে শুধু বগুড়া নয় সারাদেশে উন্নয়ন করা হবে। বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সাথে সাথে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনাদেরকে সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে পারবেন ইনশাল্লাহ।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়াবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি নিজের জন্য এবং বগুড়ার অন্যান্য আসনগুলোর প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তারেক রহমানের বিশাল নির্বাচনী জনসভাটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জনসভা স্থল ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এই জনসভায় কেউ কেউ প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে দুপুরে আগ থেকে অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর পিতৃভূমি বগুড়ায় পৌঁছে আবেগলুপ্ত হয়ে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ঘরের মানুষের কাছে তো আমার বলার কিছু নেই। ২০০১-২০০৫ সালে বগুড়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বগুড়া সদরসহ সমগ্র জেলার যে কাজগুলো প্রয়োজন ছিল তার মধ্যে বনানী-মাঠিডালী সড়ক প্রস্তুতকরণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, গ্যাস সংযোগসহ যা যা মানুষের প্রয়োজন আমরা করার চেষ্টা করেছি। বগুড়া ছিল আমার কাছে একটি মডেল জেলার মত। কারণ আমি সবসময় চিন্তা করতাম যে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলাকে কিভাবে কোনদিন যদি আল্লাহ সুযোগ দেয় বাংলাদেশের আর ৬৩টি জেলাকে কিভাবে সাজাবো এই কাজগুলো আমি বগুড়ায় করতাম। একটি জেলার মানুষের মৌলিক যে প্রয়োজন ছিল সেগুলো বগুড়ার তৈরি করেছিলাম।

বক্তব্যে পূর্বে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অংশ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী, বগুড়ার পুত্রবধূ ডাঃ জোবাইদা রহমান। তারেক রহমান বলেন, ‘আজ এই মুহূর্তে আমার আপনাদেরকে কিছু দেবার নাই। এই মুহূর্তে আপনাদের (বগুড়াবাসী) কাছে শুধু আমার চাইবার আছে। ঘরের মানুষ এই যে, আমি এত রাত্রে যে মিটিং করছি, এই যে রাজনীতি করছি, এ যে কাজ করছি আমার স্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন আমি কিন্তু পারতাম না। উনার সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি। তিনি বলেন, ‘ঠিক একইভাবে আপনারা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন,আমাকে যদি মানসিকভাবে শক্তি সমর্থন আপনারা দেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটা সুন্দর ভালো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবো। কাজেই আমি আপনাদের কাছে চাইতে এসেছি আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা, আপনাদের দোয়া, আপনাদের কাছ থেকে আমি চাইতে এসেছি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদেরই আরেক সন্তান সবসময় বলতেন তার নাম হচ্ছে শহীদ জিয়াউর রহমান। উনি বলতেন, দেশকে গড়তে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ না করলে আমাদের দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারবো না। কাজেই উনার কথার সাথে মিল রেখে আমি একটা কথা বলি সবসময় প্রত্যেক জায়গায় বলেছি, সেই কথাটা হচ্ছে, করব কাজ,গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের দোয়া চাইতে এসেছি, দোয়া করবেন এবং আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বগুড়া জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, প্রত্যেকটি গ্রাম, প্রত্যেকটি উপজেলা, প্রত্যেকটি পৌরসভার, প্রত্যেকটি মানুষের কাছে আমি দোয়া চাই যাতে আপনারা বগুড়ার প্রত্যেকটি মানুষ আমাকে আপনাদের এই সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে যাতে আপনারা গর্ব করতে পারেন সেই দোয়া আমাকে করবেন। আমাকে নিয়ে যাতে আপনারা অহংকার করতে পারেন সেই দোয়া আপনারা করবেন। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আর চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলা আছে ইনশাল্লাহ সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। যেহেতু আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না যে অন্য কেউ আমাদেরকে কোন বিতর্কিত অবস্থান ফেলুক যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে আমরা বগুড়া না বলে পাচ্ছি না আমরা কি চাই এরকম বলুক মানুষ। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না । সেইজন্যই বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে। বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবেন।‘নিজের ঘরে আসায় শুকরিয়া’ করে তারেক রহমান বলেন, ‘কেমন আছেন আপনারা সবাই? আমি প্রথমেই আজকে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই। কারণ, আজকে প্রায় ১৯ বছর পরে আল্লাহ আমাকে আবার তৌফিক দিয়েছেন এই, নিজের ভূমিতে ফিরে আসার। প্রিয় বগুড়াবাসী নিজের ঘরে এসে কি বলব? আসলে আমি নিজেও একটু তাল হারিয়ে ফেলেছি, নিজেও অনেকটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছি। আমি সেজন্য নির্বাচনী জনসভা বক্তব্য রাখার কথা কিন্তু কি বক্তব্য আমি রাখবো ঠিক আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না। ঘরের মানুষের কাছে তো বলবার কিছু নেই। আছে কিছু ঘরের মানুষের কাছে বলবার?’ তারেক বলেন, এই নির্বাচনটির ব্যাপারে আমাদেরকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। কারণ এই নির্বাচন আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দিবে যে আগামী দিনে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে । আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে চাই অবশ্যই তাহলে আমাদেরকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করতে হবে এবং তার জন্য ১২ তারিখের নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়া জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য একেএম মাহবুবুর রহমান, মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বগুড়া সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।