বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব। আমের জন্য হিমাগার করা হবে। বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করা হবে।” বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিশাল জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জনসভাস্থলে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের জনস্রোত নামে। মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল ছিলো জনসভাস্থল। কানায় কানায় পূর্ণ মাদ্রাসা ময়দান। মাঠ পেরিয়ে সড়কে জনস্রোত সৃষ্টি হয়। রাজশাহী জেলার পাশাপাশি বৃহত্তর এই বিভাগের সকল জেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার ও ফেস্টুন সহকারে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসে। তারেক রহমান বলেন, ‘যখন অন্য জেলার মানুষ রাজশাহী জেলার কথা বলেন, তখন রাজশাহী জেলার পদ্মা নদীর কথা বলেন। পদ্মাসহ এর পাশের খালগুলোতে আজ পানি নেই। রাজশাহীকে মানুষ শিক্ষানগরী হিসেবে বোঝায়। এখানে আইটি পার্ক হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। নদী খালগুলোতে পানি দরকার। রাজশাহীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করেছিলেন। শহীদ জিয়া যেটা রেখে গিয়েছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া সেটা বড় আকারে করেছিলেন। আমরা ক্ষমতায় আসলে বরেন্দ্র প্রকল্প সঠিকভাবে আবার চালু করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ সরকার গঠন করলে আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দিতে চাই। এজন্য উত্তরাঞ্চলের মানুষকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পণ্য কোল্ডস্টোরেজে রাখতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’ বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরবঙ্গের কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সেচ ব্যবস্থা শুধু রাজশাহীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের সুবিধা রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা যেন পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষক হাসলে হাসবে বাংলাদেশ। আমরা চাই উত্তরের প্রতিটি প্রান্তরে সেচের পানি পৌঁছে যাক, যাতে আমাদের মায়েরা ও কৃষানিরা সমৃদ্ধির মুখ দেখতে পান। তারেক রহমান বলেন, দেশের সকল মহিলাকে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি সব কৃষকদের একটি কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষিঋণ, সার, বীজসহ সব কৃষি উপকরণ পৌছে দেয়া হবে। রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল ভোকেশন্যাল ট্রেনিং ইন্সটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষি নির্ভর যেসব ইন্ডাস্টি প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেখানে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি মহল ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে, কীভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা যায়। তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি। আমি-ডামি নির্বাচন দেখেছি। গায়েবি নির্বাচন দেখেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি আপনারা ভোট দিতে। তারা চলে গেছেন, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে, ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, বাধাগ্রস্ত করা যায়।’তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কথা আমরা দেশের শান্তি চাই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকলকে নিয়ে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই এই দেশে।’ ‘আজ এখানে আপনারা হাজার লক্ষ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন আপনারাসহ, যত মানুষের সাথে দেখা হবে প্রত্যককে বলবেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে, সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সকলকে সজাগ থাকতে হবে’ বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারেক রহমান বলেন, ‘মেয়েদেরকে শিক্ষার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রত্যেক মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। দলমত নির্বিশেষে সবাই এই কার্ড পাবে।’চিকিৎসা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা যায় কিনা আমরা দেখবো। যাতে দেশের মানুষ দেশেই চিকিৎসা নিতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি পেশা সংক্রান্ত তালিকা আমরা তৈরি করেছি। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে কৃষকদের, যাতে উদ্যোক্তার মিল ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে পারেন। কৃষকরা ভালো থাকলে ভালো থাকবে দেশ। এজন্য কৃষকদের হাতে কৃষিকার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এখানে যাদের কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা রয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’