ভারত প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটা দেশের সাথে আরেকটা দেশের পারস্পরিক সম্মান রেখে সব রকমের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। আমরা তাদের সাথে ভালো আচরণ করলে তাদেরও বিরূপ আচরণ কমবে।’সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পানি চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের সাথে আমাদের একটা কমিন্টমেন্ট আছে। তিস্তা, পদ্মা এবং অভিন্ন নদী যতগুলো আছে, সেগুলোর সবগুলোর ব্যাপারে আমরা ভারতের সাথে এঙ্গেজ করবো। আমরা তাদের কাছ থেকে পানির হিস্যা আদায় করবো। দু’টি দেশের পারস্পরিক যে সম্মান সেটা মাথায় রেখেই দাবি আদায় করার চেষ্টা করবো। আমরা যদি ভারতের সাথে সঠিক ডিপ্লোমেটিক আচরণ করতে পারি তবে তাদের বিরূপ আচরণ কমে যাবে।’মির্জা আলমগীর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়েছে বলে আমি মনে করি না। সরকার অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। আমরা খুব উদ্বিগ্ন, এটি সরকারের ব্যর্থতা। আমরা আশাবাদী নির্বাচন চলাকালীন সময়ে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিস্থিতি ভালো। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যাবে।’সংস্কার, একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সবই বিএনপি নিশ্চিত করেছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে সরকার গঠন হলে ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘যারা সব সময় ফ্যাসিস্টদের ভয় করে এসেছে, নিজেরা কোনো কাজ করে না, বিদেশে থেকে বড় বড় কথা বলে তাদের কাছে এগুলো মনে হয়। আমরা এসব নিয়ে ভয় করি না। আমরা ফ্যাস্টিকে তাড়াতে জানি, মারতেও জানি মার খেতেও জানি।’ভারতে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িত আছে, দেশের সম্মান জড়িত আছে। নি:সন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আমাদের দেশকে অপমান করা। ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত। তবে এটাও মনে করি যে, ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের একমত হওয়া উচিত।’এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।