1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান বিজয়ী হলে প্রতিশোধ নেব না, সবাইকে ক্ষমা করা হবে: জামায়াত আমির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমস্যার সমাধানে ধানের শীষে ভোট দিন-সাবেক এমপি লালু রংপুর নগরীর বাণিজ্যিক জোনে জিএম কাদেরের প্রচারণায় জাপার শীর্ষ নেতারা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই-নন্দীগ্রামে মোশারফ হোসেন বগুড়াবাসি ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে-ভিপি সাইফুল ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবেন: তারেক রহমান বৈষম্য বিরোধীর দুই মামলায় চার্জশীট: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চানখারপুলে ছয় হত্যা: ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার

আবারো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি, পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি

  • সম্পাদনার সময় : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২১ বার প্রদশিত হয়েছে

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ঘিরে দেশটির সরকারের সাথে আবারো মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভ দমনে ইরান সহিংস পদ্ধতি ব্যবহার করলে সামরিক হামলার মাধ্যমে সেটির জবাব দেয়া হবে বলে একাধিকবার হুঁশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। গত শনিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলে এক খবরে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো হস্তক্ষেপের বিষয়ে ইসরাইল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও রয়টার্সের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে রোববার ইরানের পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুক্রবার এক ভাষণে বলেছেন, ‘কয়েক লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে এবং বিক্ষোভের মুখে তারা পিছু হটবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ইরানে বিক্ষোভ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আলি খামেনি।

সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরাইল
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে দেশটিতে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অবৈধ দেশটির এমন অন্তত তিনটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে সূত্রগুলো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এর আগে, গত জুনে এ ধরনের সতর্ক অবস্থান জানানোর পর যুদ্ধ জড়িয়ে পড়েছিল ইসরাইল ও ইরান। ১২ দিনব্যাপী ওই যুদ্ধ চলে, যাতে উভয়পক্ষ হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। ইসরাইলের সাথে ওই হামলা যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয় এবং দেশটির পরমাণুকেন্দ্রে বিমান হামলা চালায়। এ ঘটনার ছয় মাসের মাথায় ইরানে শতাধিক শহরে গণবিক্ষোভ হতে দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর হামলায় ইতোমধ্যে শত শত বিক্ষোভকারী আহত ও নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিন ধরে লাগাতার হামলার হুমকি দেয়ার পর শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘ইরান এখন স্বাধীনতা চায়, হয়ত অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত,’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা হলেও ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত দিতে দেখা যায়নি ইসরাইলকে। যদিও ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণে দুই চির বৈরী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত দ্য ইকোনমিস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ইসরাইলের ওপর হামলা চালালে সেটার ‘পরিণতি হবে ভয়াবহ’। ইরানে যে গণবিক্ষোভ চলছে, সেটির দিকে নজর রাখছেন বলেও জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।

বিক্ষোভে অংশ নিলে ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’
ইরানে শতাধিক শহরে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে যারা অংশ নেবেন, তাদেরকে ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ। এ ধরনের ‘অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’ বলে শনিবার জানিয়েছেন তিনি। এমন সতর্কতা উপেক্ষা করে শনিবার রাস্তায় নামেন ইরানে বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যাদের অনেকে হতাহত হয়েছেন। বিবিসি পারসিয়ান নিশ্চিত হয়েছে, রাশত্ শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের লাশ নিয়ে আসা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত ও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের মর্গে এত লাশ রাখার জায়গা ছিল না, ফলে অনেকের লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলে তথ্য পাওয়া ও তা যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিক্ষোভ চলাকালে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় এত মানুষ হতাহত হয়েছেন যে অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ হাসপাতালগুলোর কর্মীদের। ইরানের তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলোতে সঙ্ঘাত-সহিংসতায় আহত ও নিহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়ছে।হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিক্ষোভের শুরু যেভাবে

দুই সপ্তাহ আগে ইরানের অর্থনৈতিক সঙ্কট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি দিয়ে দেশটিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিলো।২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে হওয়া বিক্ষোভের পর চলমান আন্দোলনকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রমে সে বিক্ষোভ দেশটির সব প্রদেশে এবং শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমে তা সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় সেটি সামাল দিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে একাধিক সমন্বিত সতর্কতা জারি করেছে ইরানের সরকার। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ‘সশস্ত্র হামলাকারীদের’ বিরুদ্ধে তারা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। এদিকে, ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি দেশটির চলমান বিক্ষোভকে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন। সাধারণ ইরানিদের বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ‘আমাদের লক্ষ্য এখন আর কেবল রাস্তায় নামা নয়। শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করাই এখনকার লক্ষ্য,’ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন রেজা পাহলভি। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাহলভিও এখন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন। গত শনিবার তিনি ‘সহিংস দমন-পীড়নের’ নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার বলেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনায় তারা ‘খুবই উদ্বিগ্ন’। ‘বিশ্বের সব দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার জনগণের রয়েছে এবং সরকারের উচিৎ তাদের সেই অধিকার রক্ষা করা,’ বলেন তিনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস শুক্রবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies