বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা আর নয়। কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে যেতে চাই না। আমাদের মাঝে মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে পরিণত না হয়। আলোচনার টেবিলে বসে যেকোনো বিষয়ে কথা হতে পারে। বিভেদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।’শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে ফিরে আসার পর সাভারসহ কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান- এই সবগুলোকে সামনে রেখে আমরা যদি দেশের জন্য কাজ করি, দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো আমরা। তরুণদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এটি করতে না পারলে সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘একজন সাংবাদিক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন। আমি মনে করি নারী-পুরুষ উভয়েই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখেন।’ তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড হবে সব নারীর জন্য। স্বাভাবিকভাবেই সচ্ছলদের মধ্যে যাদের প্রয়োজন নেই, তারা নেবেন না। স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পরিকল্পনা নেয়া হবে। নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। কর্মমুখী শিক্ষায় দেয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে বিদেশে লোক পাঠাতে হবে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য রফতানিতে গুরুত্ব দেয়া হবে। আইটি পার্কের নামে দুর্নীতি হয়েছে। সেগুলোতে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগানো হবে। বিদেশী পেমেন্টের অসুবিধা দূর করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।’ বিএনপির সদ্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করা তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। সব পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা জরুরি। যেন মানুষের সমস্যা দূর করা যায়।’ মতবিনিময় বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার, যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ শীর্ষ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।