মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: কম খরচ, স্বল্প সময়ে উৎপাদন ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে রাজশাহীতে দিন দিন বাড়ছে সরিষা চাষ। চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। শীতের এই সময়ে সরিষা গাছে ফুল ফোটায় গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৯৩ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার তানোর, চারঘাট, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলায় ব্যাপকভাবে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তানোর উপজেলাতেই সরিষা চাষ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ১দশমিক ২থেকে ১দশমিক ৫ টন সরিষা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এতে একদিকে জেলার তেলজাত ফসলের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান কাটার পর স্বল্প সময়ে লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন অধিকাংশ কৃষক। পবা উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষা করেছি। রোগবালাই কম, ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। বাজারে দাম ভালো পেলে লাভও ভালো হবে। তানোর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, সরিষা চাষে খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে ফুল এসেছে। একই উপজেলার কৃষক রহিম মোল্লা বলেন, খরচ কম হওয়ায় দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি, ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি। আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘায় গড়ে ৫ থেকে ৬ মণ ফলন পাওয়া গেলে বর্তমান বাজারদরে (প্রতি মণ প্রায় ৩ হাজার টাকা) ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, সরিষা একটি কম খরচের লাভজনক ফসল। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর কৃষকরা ব্যাপক পরিসরে সরিষা চাষ করেছেন এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরিষা চাষের পাশাপাশি হলুদ ফুলে ছেয়ে যাওয়া মাঠ প্রকৃতির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক জায়গায় মানুষ সরিষার ক্ষেতে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং উপভোগ করছেন গ্রামবাংলার শীতকালীন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবারের সরিষা চাষ কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি অর্থনীতি ও পর্যটন সৌন্দর্যেও যোগ করেছে নতুন মাত্রা।