পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নৈশ প্রহরীকে বেঁধে রেখে পাঁচ জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল সোনা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারের পাঁচটি জুয়েলারি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের পূর্ব দিকে আঁখি জুয়েলার্স, মা জুয়েলার্স, মধু জুয়েলার্স, উত্তম জুয়েলার্স ও মাতৃ জুয়েলার্স স্বর্ণের দোকান। প্রতিদিনের মতো দোকানের কাজকর্ম সেরে দোকান তালাবদ্ধ রেখে চলে যান ব্যবসায়ীরা। রাত আনুমানিক দু’টার দিকে গুমানী নদী দিয়ে একটি স্পিডবোটে করে ১২-১৫ জনের একটি ডাকাতদল প্রথমে অষ্টমনিষা বাজারে নামেন। তারপর বাজারে থাকা তিনজন নৈশ প্রহরীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে তারা। এরপর একে একে পাঁচটি জুয়েলারী দোকানে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আঁখি জুয়েলার্স এর ২০ ভরি সোনা, ১৮০ ভরি রুপা ও নগদ ২০ হাজর টাকা, মা জুয়েলার্স এর ১১ ভরি সোনা, ৩০০ ভরি রুপা ও নগদ চল্লিশ হাজার টাকা, মধু জুয়েলার্সে পাঁচ ভরি সোনা, ৩ লাখ নগদ টাকা ও ২০০ ভরি রুপা, উত্তম জুয়েলার্সে বারো ভরি সোনা, ১৫ লাখ টাকা ও ১০০ ভরি রুপা এবং মাতৃ জুয়েলার্সে আড়াই ভরি সোনা, ২৫ ভরি রুপা ও দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রতন কর্মকার বলেন, আনুমানিক রাত দুইটার দিকে তার বাসাতে গিয়ে গেটে প্রচন্ড বেগে শব্দ করে ডাকাডাকি শুরু করে ডাকাতদল৷ বাড়ির মধ্য থেকে তারা কে জানতে চাইলে ডাকাত দল নিজেদেরকে প্রশাসনের লোক বলে পরিচয় দেন। এরপরে তিনি আর তার বাড়ির গেট খোলেননি। আঁখি জুয়েলার্স এর স্বত্বাধিকারী আত্তাব আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন তার দোকানে কিছু নেই। এতে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। মা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ আলী জানান, তিনি অনেক টাকা ঋণ করে দোকান করেছিলেন। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ভোরে ডাকাতি হওয়া দোকানগুলি ও এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ডিবি পুলিশ ঘটনাটির স্থান পরিদর্শন করে তদন্ত করবেন বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায অভিযোগ দেয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ডাকাতির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন টিম কাজ করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।