ভারতের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পর তদন্তের নামে মুসলিমদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসক মুজাম্মিল উমরে পরিবার। তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, তদন্তে নামে চলছে মুসলিম নিধন। আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তেই কয়েকজন মুসলিম তরুণকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে—তদন্ত কি স্বচ্ছভাবে চলছে, নাকি অকালেই নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপানো হচ্ছে? সাম্প্রতিক দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় একটি বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। ভারতের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দাবি, এটা ছিল পরিকল্পিত একটি জঙ্গি হামলা। বিস্ফোরণের পরপরই দিল্লি পুলিশ ও এনআইএ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত দ্রুত অগ্রসর হলেও শুরু থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজনের নাম প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনা দেখা দেয়। মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ তুলেছে—ব্যক্তি অপরাধ করেছে কি না তার নিরপেক্ষ প্রমাণ আসার আগেই সামগ্রিকভাবে একটি গোষ্ঠীকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের দাবি, তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া বা জিজ্ঞাসাবাদ হওয়া কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিস্ফোরণের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। বরং পুরোনো সন্দেহভাজন তালিকা কিংবা তথাকথিত গোয়েন্দা ‘ইনপুট’ ভিত্তিতে তাদের টার্গেট করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের তড়িঘড়ি দায় চাপানো তদন্তের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে। সিভিল রাইটস মুভমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, বিস্ফোরণ একটি ভয়াবহ অপরাধ। কিন্তু অপরাধী নির্ধারণের আগে তদন্তকে নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক এবং বৈজ্ঞানিক হতে হবে। কোনো সম্প্রদায়কে দোষারোপ করলে সমাজে বিভাজন বাড়ে এবং প্রকৃত হামলাকারীরা আড়াল পাওয়ার সুযোগ পায়। অন্যদিকে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা ধর্ম বা পরিচয় নয়—শুধু তথ্য, প্রমাণ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন। একজন কর্মকর্তা জানান, যারা জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এসেছে, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে ঘটনাস্থল, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কিংবা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ না মিললে তাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে এই আশ্বাসেও উদ্বেগ কাটছে না। বিস্ফোরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া খবর, অনুমান এবং গুজব ছড়ানোয় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার পর জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ তৈরি হলে সমাজে অবিশ্বাস বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই বলেন, অতীতেও এমন ঘটনার পরে প্রাথমিকভাবে তাদের ওপর দায় চাপানো হয়েছে, পরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই বর্তমান তদন্ত নিয়েও তারা শঙ্কিত।