1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
গ্রীন কলাকোপা এষ্টেটের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল নৈতিকতা সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে প্রতিটি ধর্মেই ইতিবাচক বার্তা রয়েছে-প্রধানমন্ত্রী আরো ৫ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বগুড়ায় ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সান্তাহার পৌর শ্রমিক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রানার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার নন্দীগ্রামে ৪৪টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় সৌদি বাদশাহ কর্তৃক প্রেরিত খেজুর বিতরণ রাজশাহীতে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও নাযাতের জন্য বাগবাড়ী’তে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে মানুষের ঢল বগুড়াবাসীকে যে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো তালিকা করে ফিরিয়ে দেওয়া হবে- তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

রাজশাহীর তানোরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট: খড়ের চড়া দামে দিশেহারা কৃষক, ভরসা এখন কচুরিপানা

  • সম্পাদনার সময় : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৯ বার প্রদশিত হয়েছে

মাসুদ রানান রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খড়ের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ কৃষকরা গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে তারা পুকুর, ডোবা ও খাল-বিলের কচুরিপানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে সম্প্রতি অকাল বন্যা এবং স্মরণকালের ভয়াবহ ভারী বর্ষণে গোচারণভূমি ও ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ায় সেই বিকল্পও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ফলে সংকটকে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ বছর মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি এবং পরবর্তীতে বন্যার কারণে উপজেলায় গো-খাদ্যের অন্যতম প্রধান উৎস খড়ের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জমিতে পানি জমে যাওয়ায় কৃষকরা সময়মতো ধান কেটে খড় সংগ্রহ করতে পারেননি। অনেক কৃষকের আউশ ও আমন ধানের চারা এবং ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে।  তানোরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খড়ের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় তা সাধারণ কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মেশিনে কাটা এক কেজি খড় ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, বর্তমানে অনেক কৃষকের পক্ষে কেনা অসম্ভব। স্থানীয় কৃষক আব্দুল ও আইয়ুব জানান, আগে খড়ই ছিল গরুর প্রধান খাবার। কিন্তু এখন ১৪ হাজার টাকা কাউন দরে খড় কিনতে হচ্ছে। এত দামে আমাদের পক্ষে কেনা অসম্ভ। তাই বাধ্য হয়ে গরুকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছি। খড়ের এই চড়া দামের কারণে গরু মোটাতাজাকরণ এবং কৃষি কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। কৃষকরা খড়ের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ এবং বিকল্প পশুখাদ্য সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন। গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার আধাপাকা আমন খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এই অকাল বন্যায় গো-খাদ্যের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গোচারণভূমি ও জমির আইল ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা ঘাসও কাটতে পারছেন না। ফলে গবাদিপশুর খাবারের জন্য একমাত্র সহজলভ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে কচুরিপানা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের এখন পুকুর, ডোবা ও নিচু জমি থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ নৌকা ব্যবহার করে, আবার কেউ বাঁশ বা লাঠির সাহায্যে এই ভাসমান উদ্ভিদ সংগ্রহ করছেন। অনেক খামারি শ্রমিক দিয়েও দূর-দূরান্ত থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করাচ্ছেন। গ্রামীণ জনপদে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহার নতুন নয়, তবে খড়ের অস্বাভাবিক দামের কারণে এবার এটিই প্রধান খাবারে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের মতে, কচুরিপানা গরুর জন্য খুব একটা পুষ্টিকর খাবার না হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই তাদের একমাত্র ভরসা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (এএও) আকবর হোসেন বলেন, কচুরিপানা একটি বহুবর্ষজীবী ভাসমান উদ্ভিদ যা গো-খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হতে পারে। কৃষিতাত্ত্বিকভাবে এটি আগাছা হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন নিচু ফসলি জমিতে কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যদিকে গো-খাদ্যের চাহিদাও মিটবে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াজেদ আলী জানান, শুধু কচুরিপানার ওপর নির্ভর করে গবাদিপশু পালন করা কষ্টকর। তিনি পরামর্শ দেন, কচুরিপানা রোদে শুকিয়ে খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ মৌসুমে খাল-বিলে পচুুর কচুরিপানা পাওয়ায় গবাদিপশু পালনকারীদের জন্য কিছুটা সুবিধা হয়েছে। সার্বিকভাবে, তানোরের কৃষকরা এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। গো-খাদ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies